সংবিধান সংস্কার নিয়ে একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাস ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিনকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। গত বুধবার সন্ধায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে ছাত্রদলের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সদস্য নিজাম উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হল। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতা নেজাম উদ্দিনের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়ায়। তিনি জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়াও বাঁশখালীর তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল বন্ধ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। পাশাপাশি বাঁশখালীর প্রধান সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ ও প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করণের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রীয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে হামলার শিকার হন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেন। এলাকায় তিনি জুলাই যোদ্ধা নেজাম নামে পরিচিত।
এদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের এক সিনিয়র নেতা বলেন, নেজাম ছাত্রদলের কমিটিতে থাকলেও দলীয় সভা-সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন না। মূলত ছাত্রদল ও জুলাই যোদ্ধা পদবি ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত ছিলেন। জেলা ছাত্রদলের পক্ষে থেকে তাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। সংবিধান সংস্কার নিয়ে ফেসবুক পোস্টের কারণে নয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা নেজাম উদ্দিন বলেন, যে সংবিধানে ৭১-এর স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মেজর জিয়ার পরিবর্তে শেখ মুজিবের নাম, সেই সংবিধান আমরা চাই না।
আ. লীগ গত ১৭ বছর দেশের মানুষকে এই সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। জুলাই আন্দোলন এদেশের মানুষকে মুক্তি দিয়েছে, এটাকে অস্বীকার করার সুযোগ নাই। ২০০৮ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। গত ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলাম। সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে দল আমাকে কোনো শোকজ ছাড়া বহিষ্কার করেছেন। আমি এর বিচার চাই।
