চাঁদাবাজি মামলায় ভুয়া জামিন দেখিয়ে ঘুরছেন বিএনপি নেতা, গ্রেফতার করছে না পুলিশ

শরীয়তপুরের জাজিরায় এক বিএনপি নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্বেও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে কোন ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছেনা স্থানীয় থানা পুলিশ।

পুলিশ, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে একই উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, বড়কান্দি এলাকার বাসিন্দা ও জাজিরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন এবং চাঁদা না দেওয়ায় ডুবিসায়বর বন্দর কাজীরহাটে অবস্থিত ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন। পরে চাহিদামত চাঁদা না দেওয়ায় গতবছরের ২ ডিসেম্বর রাতে বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর লোকজন নিয়ে কাজীরহাটে ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ অর্থসহ ৪০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং দোকানঘরটি দখল করে নেয়। ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছোবহান মাদবর বিচার পেতে জাজিরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা থেকে তাকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

এরপর ভুক্তভোগী ছোবহান মাদবর গতবছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাবরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর প্রায় দুইমাস পেরিয়ে গেলেও এবং অভিযুক্ত সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এদিকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে, মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী ছোবহান মাদবর বলেন, ‘‘সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে আমার দোকানঘর দখল করে নিল, সব মালামাল লুট করে নিল। থানায় বিচার না পেয়ে কোর্টে গেলাম। সেখান থেকে আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় ওয়ারেন্ট আসলেও পুলিশ আসামীদের ধরছে না। সুরুজ মাদবর আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সুরুজ মাদবরকে গ্রেফতার করছে না কারন তিনি বিএনপি নেতা। আমি ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে জানান আসামী হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন এনেছেন। তাকে ওই সংক্রান্ত নথি দেওয়া হয়েছে। পরে সেটি যাচাই করে দেখা যায় ওসির দাবী করা হাইকোর্টের আগাম জামিনের বিষয়টি ভুয়া।

বিষয়টি নিয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সালেহ্ আহাম্মদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলুন, আমি বিষয়টি দেখছি। এ ঘটনায় পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email