চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টার পর কলেজের সামনে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ছাত্রশিবিরের এক নেতার পায়ের গোড়ালি কুপিয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে ছাত্রদল-যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীকে।
সকাল ও বিকেলের সংঘর্ষের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজে নীল শার্ট পরিহিত এক যুবককে হাতে বড় কিরিচ নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই যুবকের নাম মির্জা ফারুক। তিনি চট্টগ্রামের এম ই এস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। ফারুকের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের এমপি ও মন্ত্রীদের সাথে ছবি শেয়ার করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বর্তমান মন্ত্রিসভার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়াও সংঘর্ষের সময় হেলমেট পরিহিত আরও বেশ কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক একটি গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২টার দিকে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে এবং ঘণ্টাখানেক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ও শিক্ষকরা হস্তক্ষেপে করলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
দুপুরের হামলার প্রতিবাদে বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রশিবির ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুনরায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে কুপিয়ে ছাত্রশিবিরের এক নেতার পায়ের গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রতিপক্ষ। সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে পুরো সিটি কলেজ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। বর্তমানে কলেজ প্রাঙ্গণে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ অবস্থান নিয়ে আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
