কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি: যুবদল নেতাসহ আসামি ১২

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর সশস্ত্র হামলায় ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলেও পুলিশ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

​প্রসঙ্গত ২০ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাজদিয়ার গ্রামে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলামের ওপর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ব্রাশফায়ার ও শর্টগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে রবিউল ইসলামসহ নারী ও শিশু মিলিয়ে অন্তত ১১ জন গুলিবিদ্ধ হন।

​আহতরা হলেন, রবিউল ইসলাম (৩৬), তার বৃদ্ধ পিতা হাফেজ প্রামানিক (৭০), সোহেল রানা, তমা খাতুন, কামরুল ইসলাম, মুন্নি, রুনা খাতুন, মিতা খাতুন, তৌহিদুল ইসলাম, মেরিনা ও মেহেদী হাসান। আহতরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​ঘটনার পরদিন ২১ এপ্রিল রবিউলের ভাই রুহুল আমিন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মরিচা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রাকিবুল ও স্বপনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

​মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে মাজদিয়ার গ্রামে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়দের একাংশ ও অভিযুক্তদের সমর্থকেরা। প্রধান আসামি হেলাল হোসেন দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি চায়ের দোকানে ছিলেন এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

​পুলিশের বক্তব্য: দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান দৈনিক গণকন্ঠকে জানান, “গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email