ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাসবাড়ি জামে মসজিদ পুনর্নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও মসজিদ কমিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মানিক বিশ্বাস এ কাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো বিশ্বাসবাড়ি জামে মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সরকারি সহায়তা ও এলাকাবাসীর দান-অনুদানে মসজিদটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মসজিদ কমিটি। সম্প্রতি কয়েক দফা আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
তাদের অভিযোগ, পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করে কাজ শুরু করলে নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মানিক বিশ্বাস এতে বাধা দেন। তার দাবি, মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে; তা নিষ্পত্তি না করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, “প্রায় দেড়শ বছর আগে আব্দুর রহিম উদ্দিন বিশ্বাস এক শতাংশ জমি দান করে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তার ছেলে ফজলুর রহমান বিশ্বাস আরও পাঁচ শতাংশ জমি দান করেন, যা পরবর্তীতে দলিলের মাধ্যমে ওয়াকফ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় মুসল্লিদের সম্মতিতে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”
তার অভিযোগ, “মানিক বিশ্বাস নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন। জমি নিয়ে বিরোধের অজুহাত দেখানোর পাশাপাশি তাকে দাওয়াত না দেওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।”
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মুন্সি বলেন, “মানিক বিশ্বাস আমাদের দলের যুগ্ম সম্পাদক। তবে যতদূর জানি, মসজিদটি অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। সেখানে পুনর্নির্মাণে বাধা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
এ বিষয়ে মানিক বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মসজিদের জমি ওয়াকফ না হওয়ায় নির্মাণকাজ না করার জন্য তিনি নিষেধ করেছিলেন।
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।
