গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে তিনটি খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র ফরম (শিডিউল) সংগ্রহে সাধারণ মাঝি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য তারা কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিমকে দায়ী করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কাশিয়ানীর তিনটি খেয়াঘাট ইজারার জন্য ২০ এপ্রিল দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ভাটিয়াপাড়া জঙ্গল মুকুন্দপুর ঘাটের ফরম বিক্রির শেষ তারিখ ৩ মে ও জমা দেওয়ার তারিখ ৪ মে নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া চরভাটপাড়া ঘাটের ফরম বিক্রির শেষ তারিখ ১০ মে ও জমার তারিখ ১১ মে, কলসিফুকরা ঘাটের ফরম বিক্রির শেষ তারিখ ১৭ মে ও জমার তারিখ ১৮ মে নির্ধারিত আছে।
ফুকরা ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লিটন সরকারের ভাষ্য, গত সোমবার কলসিফুকরা খেয়াঘাটের শিডিউল কিনতে যান। কিন্তু উপজেলা কার্যালয়ের নাজির জানান, শিডিউল বিক্রি শেষ। অথচ ১৭ মে পর্যন্ত সময় নির্ধারিত ছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, আগে থেকেই একজনের নামে ইজারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কলসিফুকরা খেয়াঘাটের মাঝি ইশান শেখ বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে চারজন স্থানীয় মাঝি মিলে খেয়া পারাপার করে আসছি। এলাকার মানুষকে সেবা দিচ্ছি। এবার ইউএনও অফিস থেকে ইজারার শিডিউল কিনতে গেলে গত রোববার কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম বাধা দেন।’ ওই নেতারা তাদের লোকদের দিয়ে শিডিউল সংগ্রহ করেন জানিয়ে ইশান শেখ বলেন, ‘তাদের অধীনে আমাদের ঘাট চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমরা গ্রহণ করিনি।’ তাঁর অভিযোগ, তারা শিডিউল কিনতে গেলে উপজেলা কার্যালয় থেকে তা দেওয়া হয়নি। পরে জানতে পারেন, খেয়াঘাট অন্যের নামে বরাদ্দ হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লা বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। আমার জানামতে, নির্দেশনা অনুযায়ী একটি দরপত্র বিক্রি হয়েছে। বাকি দুইটির ক্ষেত্রে কেউ সংগ্রহ করেনি। কেন নেয়নি, সেটা আমি বলতে পারব না।’ তাঁর ভাষ্য, আগে হয়তো ঘাটগুলো খাস হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। এবার নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই।
ইউএনও মো. শাহীন মিয়া বলেন, খেয়াঘাট ইজারার দরপত্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে। তিনটি ধাপে শিডিউল বিক্রি ও দাখিলের সুযোগ আছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ শিডিউল কিনতে পারেননি– এমন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইজারার প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগও সঠিক নয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘কাশিয়ানীর তিনটি খেয়াঘাটের ইজারা সম্পর্কে কোনো অভিযোগ এসেছে কিনা, তা আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারব।’ তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
