ভিডিও ভাইরাল: পদ পাওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ছাত্রদল আহ্বায়ককে অব্যাহতি

অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছাদ্রদল নেতা/লোগো © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় ‘অশালীন ও বিতর্কিত’ ভিডিওর জেরে পদ হারালেন নবনিযুক্ত আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ। ভিডিওতে তাকে মাদক নিয়ে কথা বলতে, হাতে ছুরি নিয়ে হত্যার হুমকি দিতে এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ মে) মধ্যরাতে ৩০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরপরই ফিরোজ আহমেদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে আম খাওয়ার ফাঁকে মাদক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ছুরি উঁচিয়ে একজনকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়।

পদবঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলার চেয়ে অপরাধমূলক মামলার সংখ্যাই বেশি। এছাড়া সদস্য সচিব খান ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধেও অতীতে জামায়াত-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার তথ্য সামনে এনেছেন তারা। দলীয় সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ সোনাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

এদিকে এই ঘটনার পর বুধবার (১৩ মে) দুপুরে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফর দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সেই মুহূর্তেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতির ঘোষণা আসে। নিজের নাম ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দেখে আবু জাফর সংবাদ সম্মেলন না করেই সমর্থকদের নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ও মিষ্টি বিতরণ করেন।

তবে অব্যাহতি পাওয়ার আগে ফিরোজ আহমেদ ভিডিওটিকে ‘ফানি ভিডিও’ বা মজার ছলে করা বলে দাবি করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি মাটির মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করি, আবৃত্তি করি। মজার ছলে কখনো মাছ বা কাপড় বিক্রি করি। এটিও তেমন একটি ভিডিও ছিল, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি ডোপ টেস্ট করতে রাজি; আমার শরীরে কোনোদিন সিগারেটের ধোঁয়াও যায়নি।

উল্লেখ্য, খুলনা জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছিল ২০১৬ সালে, যা ২০১৮ সালে সম্প্রসারিত করা হয়। দীর্ঘ মেয়াদে থাকা সেই কমিটি ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সংসদ। নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙার চেষ্টা করা হলেও শুরুতেই তা চরম নাটকীয়তা ও বিতর্কের মুখে পড়ল।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email