আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি নেতার জমি দখল

বাগেরহাটের রামপালে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমি দখল করে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইস্রাফিল শেখ নামের স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুকের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা গুঞ্জন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, রামপাল উপজেলার গিলাতলা মৌজার ০.০১৯০ একর বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে চলমান মামলায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আদালতের আদেশে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ, দোকানঘরের ক্ষতি, ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ কিংবা বাদীর ভোগদখলে বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের আদেশের অনুলিপি স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে দেওয়ার পরও প্রকাশ্যে ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দ্রুতগতিতে ভবনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে আদালতের আদেশ কার্যকরে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, আদালতের নির্দেশনার পরও নিয়মিত নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সহজেই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে পারত।

এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ওমর ফারুকের প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা চলছে। সংবাদ সম্মেলনের পরও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।

এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইস্রাফিল শেখের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, জমিটি বৈধভাবে কেনা হয়েছে এবং আইন মেনেই নির্মাণকাজ চলছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রামপাল সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীপক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রকাশ্যে এমন নির্মাণকাজ চলতে থাকলে তা আইনের শাসনের প্রতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ইস্রাফিল শেখ রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়ন বিএনপির সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন এবং পরাজিত হন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল-মোংলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের আদেশের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email