ইজারাকৃত বাজার রক্ষায় ‘খুনের হুমকি’, বিএনপি নেতার বক্তব্যে তোলপাড়

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় হাট-বাজার ইজারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা জলিলুল রহমান মানিকের উগ্র ও হুমকিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় এক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজার রক্ষার স্বার্থে খুন করতে হলে খুন করব, হাত-পা ভাঙতে হলে হাত-পা ভাঙব।’ এমন বক্তব্যে স্থানীয় জনসাধারণ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কবিরহাট উপজেলার আমিন বাজারের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির একটি দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বাজারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বলেও অভিযোগ ওঠে।

ভিডিওতে আরও শোনা যায়, তিনি দাবি করেন- উপজেলা বিএনপির নেতাদের নির্দেশে বাজারটি তাঁর নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন। তাঁর এমন বক্তব্য বাজার ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এ ধরনের সহিংস বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আমিন বাজার ইজারায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাকিম সুজন অভিযোগ করে বলেন, “আমিন বাজার ইজারা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই মানিক তাঁর অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসে আমাদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকি দেন। আমরা তাঁর গ্রেপ্তার ও বাজারটি পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারার দাবি জানাচ্ছি।”

আরেক স্থানীয় ব্যক্তি বেলাল হোসেন বলেন, “বর্তমানে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানিক ও তাঁর সহযোগীরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঘোরাফেরা করছে এবং আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

কবিরহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন জানান, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। জলিলুল রহমান মানিক এক সময় আমাদের দলের দায়িত্বে থাকলেও বর্তমানে তাঁর কোনো পদপদবি কিংবা সাধারণ সদস্যপদ না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তাঁর বক্তব্যে হুমকি-ধুমকির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়, সেই বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।”

এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে- এ ধরনের পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঘটেছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠেছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email