রাজশাহীতে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করছেন বিএনপি নেতা

Screenshot

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় সরকারি রাস্তা ও খালের ধারের গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. মোখছেদুল চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগেও একইভাবে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে সময় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কাটা গাছ জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেই গাছগুলো এখনও ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে পড়ে রয়েছে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

এদিকে বর্তমানে খাল খননের কাজ শুরুর আগে আবারও রাস্তা ও খালের মাঝামাঝি স্থানে থাকা গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সরেজমিনে দেখা যায়, চারঘাট উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার ইচিমারি কালভার্ট সংলগ্ন খাল ও পাকা রাস্তার ধারে থাকা শতাধিক মেহগনি গাছ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছ ইঞ্জিনচালিত গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরেই প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোখছেদুল বলেন, “এসব গাছ আমার চাচা এজাজুল হক লাগিয়েছিলেন। তিনি স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মূলত তিনিই ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় গাছগুলো বিক্রি করেছেন। আমি শুধু তার হয়ে বিষয়গুলো দেখাশোনা করছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, রাস্তা ও খালের মাঝামাঝি যে স্থানে গাছগুলো ছিল, সেটি তাদের নিজস্ব জমি। তার ভাষ্য, “খাল ও রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়েই গেছে।”

দুই বছর আগে প্রশাসনের কাছে গাছ না কাটার অঙ্গীকার করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মোখছেদুল বলেন, “এসি ল্যান্ড আমাদের কোনো সতর্কবার্তা দেননি।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, “রাস্তা ও খালের ধারের সরকারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদের ক্ষতি করে কেউ পার পাবে না।”

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email