ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত একটি পরিচয়পত্রের ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, এটি তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন পরিচয়পত্র। পরিচয়পত্রের ছবিটি আসল মনে করে বিএনপি সমর্থন করেন এমন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীকেও এটি শেয়ার করতে দেখা গেছে। দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দাবিতে ছড়ানো ছবিটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও ছবিতে রয়েছে বিভিন্ন অসত্য তথ্য।
ফেসবুকে ছড়ানো পরিচয়পত্রের ছবিটিতে তারেক রহমানের ইংরেজি নাম হিসেবে লেখা হয়েছে Tareque Rahman, বিভাগ হিসেবে লেখা রয়েছে আইন বিভাগ এবং তার আবাসিক হল হিসেবে লেখা রয়েছে শহীদুল্লাহ হল। এছাড়াও তার শিক্ষাবর্ষ হিসেবে লেখা রয়েছে ১৯৮৪-৮৫ এবং জন্মতারিখ হিসেবে লেখা রয়েছে ২০ নভেম্বর ১৯৬৭।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা যায়, বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তারেক রহমানের ইংরেজি নাম Tarique Rahman, Tareque Rahman নয়। এছাড়া ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে তিনি বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের শিক্ষার্থী ছিলেন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের নয়।
এছাড়াও তার জন্মতারিখ হিসেবে বিএনপির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০ নভেম্বর ১৯৬৫ লেখা রয়েছে, ২০ নভেম্বর ১৯৬৭ নয়। তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও তার জন্মদিন ২০ নভেম্বর ১৯৬৫ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোগো পরিবর্তন করা হয়েছে মোট ৪ বার। সর্বশেষ পরিবর্তন করা হয়েছিলো ১৯৭৩ সালে। কিন্তু ফেসবুকে ছড়ানো আইডি কার্ডে দৃশ্যমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো লোগোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ছবিটিতে দৃশ্যমান সীলে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর লেখা দেখা যাচ্ছে যা সাধারণত এআই জেনারেটেড ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়। পরবর্তীতে হাইভ মডারেশনসহ একাধিক এআই ছবি সনাক্তকরণ টুল দিয়ে প্রচারিত ছবিটি যাচাই করে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
