নোয়াখালীতে ফাহিম হত্যা ও আহতদের ঘটনায় শিবিরের তীব্র নিন্দা

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবীসিংহপুর গ্রামে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় এসএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যা এবং ছাত্রশিবির কর্মী সাকিবসহ চারজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার দেবীসিংহপুর গ্রামে স্থানীয় ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ’-এর সভাপতি ও বিএনপি কর্মী রশিদের প্রত্যক্ষ মদদে আঞ্জু মিয়াজী বাড়ির উঠান ও সংলগ্ন এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক কারবার ও সেবনের আস্তানা চালিয়ে আসছিল চিহ্নিত মাদক কারবারি মো: হারুন, মমিন ও জাহাঙ্গীর। গত বুধবার সন্ধ্যায় নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাহিম, ছাত্রশিবিরকর্মী সাকিব এবং স্থানীয় যুবক রিফাতসহ সচেতন তরুণরা স্থানীয় মসজিদের পাশে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাদের দেখতে পেয়ে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে আপত্তি জানান এবং তাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এরই জের ধরে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থাকা মাদক কারবারি হারুন, মমিন ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ফাহিমকে বুকে ও পায়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। একইসাথে বাধা দিতে গেলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথীপ্রার্থী সাকিবকে ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। হামলায় রিফাতসহ আরো তিন থেকে চারজন গুরুতর আহত হন। সাকিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাদেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ২০৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের বিস্তারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়েছে। সরকারের কার্যকর ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে অপরাধীরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হারুন এবং নেপথ্যের মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রশিদসহ সকল আসামির বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একইসাথে তারা নিহত ফাহিমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email