নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত থেকে রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যের এ ভিডিও ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
তার ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা যায়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে জাহাঙ্গীর আলমকে কোনো এক স্থানে নিজ অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে শোনা যায়। মোবাইল ফোনের অপরপ্রান্তের কোনো এক ব্যক্তিকে তিনি বলেন, ‘বিএনপিওলারা আমারে ক্ষতি করতাছে। নির্বাচনের পর অগরে মামলা দিয়া দৌড়ামু। আর আওয়ামী লীগ ওলাগো কোলে লইয়া নাচমু, চিন্তা কইরেন না’।
এদিকে দায়িত্বশীল পদে থেকে নিজ দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ে এহেন মন্তব্য করায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ মন্তব্যের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি এ ধরনের কোনো কথা আমি বলিনি। ভাইরাল করা ভিডিওতে আপনারা দেখতে পাবেন যে আগে এবং পরের কোনো বক্তব্য নাই। শুধুমাত্র দুইটা বক্তব্যকে ছাড়া হয়েছে। মূলত আমার ভাগ্নে নোবেল মীরের সঙ্গে আমার লেনদেন নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা থাকায় সে এটা ভাইরাল করেছে। নোবেল আমার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এআই দ্বারা এটা ভাইরাল করা হয়।
সোনারগাঁওয়ে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপি নেতা দাবি করেন, এমন বক্তব্য একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখ থেকে কোনোভাবে কাম্য নয়। যদিও ভিডিওটি আগের। ভিডিওটি প্রচার হওয়ার কারণে ইউনিয়ন বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে হামলা মামলার জেল জুলুমের শিকার হওয়ার পরও যদি বিএনপির শীর্ষ নেতার মুখ থেকে এমন বক্তব্য আসে তাহলে আমাদের বিএনপি করার দরকার নাই। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি। এ ভিডিওর জন্য আমরা মৌখিকভাবে তার কাছে জবাব চেয়েছি। যদি জবাব দিতে ব্যর্থ হয় তাকে দল থেকে শোকজ করা হবে। এ ঘটনায় দুই-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
তিনি বলেন, ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে তিনি যদি সত্যিই এমন কথা বলে থাকেন, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সত্যতা নিশ্চিত হলে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
