সাংবাদিক পরিচয়ে নারী সবজি ব্যবসায়ীর থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

বরিশালে চাঁদা আদায়কারী ছাত্রদল © ফাইল ছবি

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নারী ব্যবসায়ীর থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল হাসানের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোলা রোড সংলগ্ন এলাকার এক নারী সবজি ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডের কাঁচাবাজারে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম ও সীমা বেগমের দোকানে তিনি নগদ ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। অভিযুক্ত সাজেদুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফি শিকদারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রদল নেতা সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী নারী ব্যবসায়ী সীমা বেগম বলেন, ‘আমাদের হুমকি দিয়ে ৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে আমাকে ঘরে ফিরতে দেওয়া হবে না এবং আমাদের মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন তিনি। আমি তখন বলি, ধারদেনা করে কোনোমতে দোকানটি দিয়েছি, এতো টাকা কীভাবে দেব? একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আমি তাকে ১ হাজার টাকা দিই। আমার স্বামী ও আমাকে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “তিনি প্রথমেই এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি আমাকে চেনেন?’ আমি না বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘তুই এখানে দোকান দিছিস কেন?’ আমি তখন বলি, এটা সরকারি জায়গা, আমি তো রাস্তায় দোকান দিইনি। দোকান সরানো বা রাখার বিষয়টি রোড সার্ভিসের দায়িত্ব। এই কথা শোনার পর তিনি চরম মারমুখী হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাশের দোকানদাররা আমাকে সরিয়ে নেন।”

অভিযোগের বিষয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল হাসান বলেন, ওনারা একটা দোকানে বসে চা খাচ্ছিল, পাশের দোকানে বসে আমি ছোট ভাই শিমুল আর ইমরান চা খাচ্ছিলাম। ওনারা কথা বলতেছিলেন এ বিষয়ে যে, ওনারা নাকি ফায়ার সার্ভিসের বৈধ জায়গায় অথরিটির অনুমতি নিয়েই থাকেন এবং দোকানঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন, এই নিয়ে কারা তাদের বিরক্ত করেছে। এমতাবস্থায় এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানতে চাচ্ছিলাম। পরে আন্টি আমাকে ছেলে সম্বোধন করে সহযোগিতা চাইল যে পরবর্তীতে কেউ তাদের বিরক্ত করতে আসলে আমি যেন এসে বিষয়টা দেখি। আমাকে চা পর্যন্ত খাওয়ালো। দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলে সত্যতা পাওয়া যাবে। এখন আমি তো বুঝতেছিই না এখন আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি সিসি ক্যামেরা রয়েছে ওটা চেক করলেই সব পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফি শিকদার বলেন, ‘এই ঘটনা সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না। তবে যদি এমন কোনো ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে, তবে আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, ‘আমি শুনেছি যে ওখানে একটা ঝামেলা হয়েছে। আমি এখন ওই জায়গায় আসছি ঘটনা কি ঘটছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বললেন, আমরা তো নাম জানি না তবে সাজিদ নামে একটা ছেলে আসছিল। স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছাত্রদলে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই। যদি সংগঠনের কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংগঠন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email