রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মেহেদী হাসান নামে এক বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মিঠাপুকুরের লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
সোমবার (১৩ জুলাই)সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভিডিও টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে নিয়মিত মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এছাড়া উপজেলা মাদকবিরোধী কমিটির এক নেতাকে রক্ত দিয়ে গোসল করানোর হুমকি দিয়ে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি তার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিও ভাইরালের পর থেকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মেহেদী হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মেহেদীর ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখামাত্রই আমি উপজেলা সভাপতিকে বিষয়টি অবগত করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে উপজেলা সভাপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দেখা করার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন (পাইকার) বলেন, আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি এবং বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচরও হয়নি।এ ধরনের কোনো ঘটনা যদি ঘটে থাকে, তবে আমরা দলীয়ভাবে তদন্ত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন,মেহেদীর ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। সকাল থেকে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করিনি, কোনো খোঁজখবরও নেইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানাব।
এদিকে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন মাদকাসক্ত রূপ প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
