পটুয়াখালীর বাউফলে হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ের জায়গায় নির্মিত দেয়াল ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
কালাইয়া বন্দরের মহাজনপট্টি বড় জামে মসজিদ এলাকায় আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকের এ ঘটনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে যুবদল নেতা গিয়াস তার লোকজন নিয়ে দেয়ালটি ভেঙে ফেলেছেন। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি যে অজুহাত দেখিয়ে দেয়ালটি ভেঙেছেন, সেখানে রাস্তায় বিদ্যালয়ের কমপক্ষে চার ফুট জায়গা রয়েছে। বর্তমানে যে সড়কটি রয়েছে তার প্রশস্ত প্রায় আট ফুট। যাতায়াতের জন্য এর বেশি জায়গার দরকার হয় না।
হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে ওই বিদ্যালয়ের নামে কালাইয়া বন্দরে মহাজনপট্টি জামে মসজিদের পাশে ১১ পয়েন্ট ৭০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়। যার মৌজা কালাইয়া, খতিয়ান নং ২০২৫/৩০০০১০, দাগ নং ১৮২। ওই জমিতে দোকান ঘর তুলে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় তা ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা দেয়াল নির্মাণের কাজ করছিল। ৮ ফুট উঁচুতে প্রায় ৩৫ ফুট ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়। এ সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিন লোক নিয়ে হামার (হাতুড়ি) ও শাবল দিয়ে দেয়াল ভেঙে ফেলে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সালেহ আহমেদকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। এ ঘটনায় হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, যেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ দেয়াল নির্মাণের কাজ করছিল সেটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে দুটি মসজিদ, দুটি মন্দির ও দুটি মার্কেট রয়েছে। সরু রাস্তার কারণে লোকজনসহ যানবাহন চলাচলে কষ্ট হয়ে পড়ে। সেখানে রাস্তার পাশে দেয়াল নির্মাণ করায় রাস্তাটি আরও সরু হয়ে যায়। দেয়ালটি যাতে নির্মাণ করা না হয় সেজন্য এলাকার লোকজন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। তারা নিজেরাই আজ দেয়াল ভেঙেছে। আমি কেবল ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানার পরে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
