বোয়ালমারীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার জাকারিয়া

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় বিএনপির নাম ও ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ শাহ মো. জাকারিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাকারিয়া বিভিন্ন সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লোকজনকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, জাকারিয়ার বাবা কাজী কারী মো. মনজুরুল হক গুনবাহা ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা এবং বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিপক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে তার সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য ফরিদপুর-১ আসন (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জানা যায়, শাহ মো. জাকারিয়া বোয়ালমারীর উমরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা বিএনপির কোনো পর্যায়ের সাংগঠনিক পদে নেই। তবে ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অফিস আদালত, থানার দালালীসহ কর্মকাণ্ড চালিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাকারিয়া বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছেন—এমন একাধিক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সে কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে কেউ তার সঙ্গে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত না হন।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে। সে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। আমাদের ধারণা, তার পরিবারের সদস্যরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি জামায়াতের কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে শাহ মো. জাকারিয়ার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email