কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা না করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জজ মিয়া (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় মামলা করেছেন।
মামলা রুজুর পর গা ঢাকা দিয়েছেন জজ মিয়া নামে ওই বিএনপি নেতা। তিনি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে এবং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ, পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই শিশু শিক্ষার্থী বাড়ির পাশের একটি জমিতে লাকড়ি শুকাতে যায়। এ সময় আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত জজ মিয়া তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে কণ্ঠরোধ করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মুখে চাপা দেওয়া গামছা সরিয়ে শিশুটি চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
কিন্তু এমন বর্বরোচিত ঘটনায় মামলা না করে ধামাচাপা দিতে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে সালিশি দরবারে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসার জন্য প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতা। এমনকি প্রভাবশালী চক্রের লোকজন জজ মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
কিন্ত শিশুটির বাবা মীমাংসার প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে জজ মিয়ার বিরুদ্ধে শুক্রবার সকালে কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করেন।
কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসামি জজ মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
