কর্ণফুলীতে রাতে বিএনপি নেতার যোগসাজশে ৩ ট্রাক অবৈধ স্লাইস খালাসের অভিযোগ

কর্ণফুলীতে রাতে বিএনপি নেতার যোগসাজশে ৩ ট্রাক অবৈধ স্লাইস খালাসের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

কর্ণফুলীতে গভীর রাতে তিনটি ট্রাকে অবৈধ পোড়া তেল বা ‘স্লাইস’ খালাসের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

কর্ণফুলীতে গভীর রাতে তিনটি ট্রাকে অবৈধ পোড়া তেল বা ‘স্লাইস’ খালাসের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের কাছ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে ট্রাকগুলো থেকে মালামাল খালাস করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১টার দিকে কর্ণফুলীর খুদ্দট্যাক এলাকার ওসমান ওরস বিরানির সামনে সড়কে তিনটি ট্রাক থেকে মালামাল খালাস করতে দেখা যায়।

এ সময় সাংবাদিকরা ট্রাকগুলোর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে থাকা শ্রমিকদের কাছে মালামাল অবৈধ কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমরা জানি না এগুলো অবৈধ না বৈধ। আপনারা চালকদের সাথে কথা বলেন।’

পরে ট্রাকের চালকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, সবকিছু ঠিক আছে এবং মালামালের বৈধ চালান রয়েছে। তবে চালানের সাথে গাড়ির নম্বরের মিল পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি অবহিত করার জন্য কর্ণফুলী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের সংবাদদাতা মো: সিরাজুল ইসলাম কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইখতিয়ার উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করেন। তবে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড় পাওয়া যায়নি। পরে ট্রাকগুলোর ছবি ওসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো হলেও তিনি তা দেখেও কোনো সাড়া দেননি।

পরে উপস্থিত সাংবাদিকরা ওসির মোবাইল নম্বরে কল করলে তিনি জানান, ‘এখন ব্যস্ত আছি।’ এরপর সাংবাদিকরা তিন ট্রাকে অবৈধ পোড়া তেল বা ‘স্লাইস’ খালাসের অভিযোগের বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি।’

তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই ফোনালাপের প্রায় এক ঘণ্টা পরও কর্ণফুলী থানা থেকে কোনো পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেননি। এ সময় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিলেন।

পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম হানিফ ও গফুর মেম্বার। স্থানীয়দের উদ্দেশে এ টি এম হানিফ বলেন, ‘তোমরা তো ঘটনা বড় করে ফেলছ।’

এরপর ট্রাকের চালক ও মালামাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে নিয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে বৈঠক করেন তারা। এ সময় সাংবাদিকদের সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়।

তারা বলেন, ‘এখানে সাংবাদিকদের কোনো কাজ নেই। বাইরে গিয়ে দাঁড়ান, আমরা কথা শেষ করে জানাব।’ পরে তারা সাংবাদিকদের কিছু না বলে অবৈধ তেলবাহী ট্রাকগুলো ছেড়ে দেয়।

ঘটনাস্থলে থাকা একটি ট্রাকের নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ন-১১-১২৬৫ এবং ঢাকা মেট্রো-ন-১২-০১৫৮। বাকি ট্রাকগুলোর নম্বর অন্ধকারের কারণে বোঝা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম হানিফ ও গফুর মেম্বারের যোগসাজশে ট্রাকগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

কর্ণফুলী থানার ওসি মো: ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো কিছু পাইনি।

এমন উত্তরে সাংবাদিক বলেন, আমরা সাংবাদিকরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে আছি। আপনি তো ঘটনাস্থলে আসেননি, এমনকি কোনো ফোর্সও পাঠাননি। আর যদি ফোর্স পাঠিয়ে থাকেন কিংবা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে থাকে, তাহলে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের ফোন করে জানাতে পারতেন। কিন্তু সেটিও করা হয়নি।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email