মাছের আড়তদারদের সংগঠনে কমিটির অনুমোদন বিএনপির

ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিত বরিশাল নগরের পোর্ট রোড মোকামের কমিটি দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। অরাজনৈতিক সংগঠন ‘সদর উপজেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনে’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মৎস্যজীবী দলের দুই নেতাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা। তারও আগে অনুমোদনের জন্য ‘রিকমেন্ট ফর অ্যাপ্রুভ’ লিখে সুপারিশ করেন বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনের এমপি মো. মজিবর রহমান সরওয়ার।

প্রায় ৫০ বছর আগে গঠিত সদর উপজেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সদস্য ১৬০ জন। পাইকারি এই মাছের বাজারটি যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় ছিল, তাদের অনুগত ব্যবসায়ীরাই ওই সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে অতীতে কখনও রাজনৈতিক দলের লিখিত অনুমোদনে কমিটি গঠিত হয়নি বলে বলছেন মোকামের ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, গত ২৫ মার্চ মহানগর মৎস্যজীবী দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক) আব্দুস সালাম মিয়াকে সভাপতি ও মহানগর মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব কামাল সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে অ্যাসোসিয়েশনের ১৩ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার। একই দিন অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেন বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনের এমপি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. মজিবর রহমান সরওয়ার।

অ্যাসোসিয়েসনের সাবেক সভাপতি ও মহানগর যুবদলের সহসভাপতি জহির সিকদারের ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আব্দুস সালাম মিয়াকে সভাপতি ও কামাল সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের একটি কমিটি গঠিত হয়। তখন প্রতিমণ ইলিশের খাজনা ছিল ১০০ টাকা। দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিটির নেতারা মোকাম ইজারা নিয়ে খাজনা করেন ৩০০ টাকা। তারা সংগঠনের প্রায় ৬০ লাখ টাকার হিসাব দিতে পারেননি। এমনকি ২০ টাকা করে প্রায় ১৪ লাখ টাকা চাঁদা তুলে তারও হিসাব দেননি।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে সংগঠনের সাধারণ সভায় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে শীর্ষ পদ থেকে দুজনকে সরিয়ে আট সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা করে। কিন্তু সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মহানগর বিএনপি নেতাদের আহ্বানে তপশিল স্থগিত হয়। এ সুযোগে নতুন কমিটির সদস্যরা শনিবার দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাধারণ সদস্যদের বাধায় দায়িত্ব নিতে পারেননি।

কামাল সিকদার রোববার বলেন, আগেই নির্বাচন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংগঠনে আওয়ামী লীগের লোকজন বেশি। তাই বিএনপি নেতারা কমিটি করেছেন। সংগঠনটিকে অরাজনৈতিক হিসেবে স্বীকার করলেও আর কিছু বলতে রাজি হননি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, এটি মাছ ব্যবসায়ীদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এর কমিটি মহানগর বিএনপি দিতে পারে না। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email