বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

পটুয়াখালী জেলা ম্যাপ। গ্রাফিক্স: কালবেলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শাহ আলম মোল্লা (৬০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহ আলম মোল্লা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শাহ আলম মোল্লা বলেন, বালিয়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর হাওলাদারের নির্দেশেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ৫ আগস্টের পর তার কাছ থেকে চাঁদা আদায়ও ওই নেতার নির্দেশে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত শাহ আলম মোল্লাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।

ভুক্তভোগীর ছেলে আবু তালেব কালবেলাকে বলেন, ‘আমার বাবার দুই পায়ের তিনটি স্থানে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পায়ের গোড়ালিতে ১৮টি সেলাই লেগেছে। সেখানে লিগামেন্টও কেটে গেছে। আমার বাবা একজন নিরীহ মানুষ। কিন্তু তার ওপর এ ধরনের নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়েছে।’

শাহ আলম মোল্লা কালবেলাকে জানান, শুধু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় বহন করার কারণে ৫ আগস্টের পর তিনি একাধিকবার চাঁদা দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে কোনোদিন কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াননি। ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তত চার ধাপে তাকে প্রায় তিন লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে একাধিকবার হামলার পর আমার গোয়াল থেকে গরু ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই ভয়ে সব গরু বিক্রি করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ঘটনার দিন তিন লাখ টাকা নিয়ে ফের গোয়ালের জন্য গরু কিনতে হাটে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে গুরুতর জখম করে দ্বীন ইসলাম, রুমান, তৌহিদ মাদবরসহ আরও কয়েকজন প্রায় তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বালিয়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর হাওলাদার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কাজে কলাপাড়ায় ছিলাম। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. পলি সাহা বলেন, ‘তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। তবে পায়ের গোড়ালির অবস্থা গুরুতর। তাই তাকে দ্রুত বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email