লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ বাজারের মৎস্য ও মাংস ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে শেডঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তরা হলেন- খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বকুল এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারের দাবি, যাতায়াতের পথ ও ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাছ-মাংস ধোয়ার বরজ ও পচা পানি জমে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ী, কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা, পথচারীসহ পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও হাফেজিয়া মাদরাসার মুসল্লি ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভূমি অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার এক মাস পার হলেও মেলেনি কোনো সুফল।
বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, খুনিয়াগাছ বাজারে মাছ ও মাংস বিক্রির জন্য নির্ধারিত সরকারি শেডঘর রয়েছে। সেই শেডঘরের একদম লাগোয়া সরকারি জমিতে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম বকুল ও সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল আলম অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। এতে বাজারে ঢোকার একপাশের চলাচলের পথ এবং জলবদ্ধতা দূর করার ড্রেনটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে শতাধিক দোকানের বর্জ্য মিশ্রিত ময়লা পানি আটকে থেকে চারপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
এদিকে অপরিকল্পিতভাবে শেডঘর নির্মাণ করার শুরুর দিকে হাট ইজারাদার মশিউর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভূমি অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে শেডঘর ঘিরে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা ও ড্রেন দ্রুত খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার এক মাস পেরিয়েও গেলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন হাট ইজারদার।
বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগ দেওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ রাস্তা ও ড্রেন খুলে দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে বাজারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতা সাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
তাদের দাবি, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা শেডঘরটি উচ্ছেদ করে বাজারে ঢোকার বন্ধ রাস্তা ও ড্রেন চালু করে দেওয়া হোক। এ ব্যাপারে বাজারের মাছ ও মাংসসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাজারের সার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, মাংস ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান, হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ও কম্পিউটারের দোকানদার আলম জানান, শেডঘর নির্মাণের কারণে যাতায়াতের রাস্তা ও পানি যাওয়া ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে খুনিয়াগাছ বাজারের মাছ ও মাংসসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেওয়া এবং ক্রেতা সাধারণ চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন।
খুনিয়াগাছ হাট ও বাজারের ইজারাদার মশিয়ার রহমান বলেন, বাজারে অপরিকল্পিতভাবে শেডঘর নির্মাণ বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ দায়েরের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি প্রশাসন। এমনকি অভিযোগের তদন্তও হয়নি। রাস্তা ও ড্রেন বন্ধ থাকায় বাজারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতা সাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে বাজারে দোকান করছি। আমি আমার জায়গা পাকা করেছি। এতে কারো অসুবিধা হলে আমার কী করার আছে।’
অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল আলম বলেন, ‘আমি বাজারের পুরাতন ব্যবসায়ী। আমি আমার নিজের দোকান পাকা করেছি। এতে কারো সমস্যা হলে আমার কিছু করার নেই।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস বলেন, খুনিয়াগাছ বাজারে শেডঘর নির্মাণের ব্যাপারে হাট ইজারাদারের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
