অর্পিত সম্পত্তি কৃষক দলের পাঁচ নেতাকে লিজে, ক্ষোভ

অর্পিত সম্পত্তির লিজ বাতিলের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামবাসীর মানববন্ধন সমকাল

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় একটি অর্পিত সম্পত্তি কৃষক দলের পাঁচ নেতাকে লিজ দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সম্প্রতি পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামের একমাত্র মসজিদ ভাঙা পড়েছে। গ্রামে মসজিদ নির্মাণের মতো জায়গা নেই। অথচ ওই ২২ শতাংশ জমি লিজ দেওয়া হয়েছে এলাকার বাইরের পাঁচ নেতাকে। তারা এ জমি মসজিদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ওই লিজ বাতিল এবং মসজিদের জন্য বরাদ্দের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছেন পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামবাসী। এর আগে তারা চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার মানববন্ধন এবং রোববার জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ। কালামপুর-সাটুরিয়া-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের পূর্ব কুষ্টিয়ার চৌরাস্তা মোড়ের পাশে ওই কৃষি জমির অবস্থান। প্রায় দুই কোটি টাকার মূল্যের গত ১৫ সেপ্টেম্বর ওই জমি কৃষক দলের পাঁচ নেতার নামে একসনা লিজ দেয় জেলা প্রশাসন। ওই দিন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তি শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি সাটুরিয়ার ইউএনওকে অবহিত করা হয়। সাটুরিয়ার ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, লিজ গ্রহীতারা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আবেদন করেন। বিধি মোতাবেক তাদের একসনা লিজ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ওই জমি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়াত শিল্পপতি সৈয়দ বাদশা আলমের সঙ্গে সরকার পক্ষের কয়েক বছর মামলা চলছিল। সেই মামলায় মাস দুয়েক আগে সরকার পক্ষ রায় পায়। এর পরই পাঁচ নেতার নামে লিজ দেওয়া হয়।

ওই নেতারা হলেন, উপজেলা কৃষক দলের সহসভাপতি ও সাটুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ মো. শাকিল হোসেন, বালিয়াটি ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ও বালিয়াটি ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম, ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম ও প্রচার সম্পাদক জিন্নত আলী এবং সাটুরিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য হাছেন আলী। গতকাল পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামের জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি শুকুর আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বালিয়াটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামে মাত্র একটি জামে মসজিদ ছিল। সড়ক প্রশস্ত করার কারণে সেটি ভাঙা পড়েছে। মসজিদ করার মতো আর জায়গাও নেই। তাই উপজেলা প্রশাসন মসজিদের নামে ওই জমি বরাদ্দ দিলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারতেন। ওই লিজ বাতিল করে মসজিদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হোক। তা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবে পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামবাসী। মসজিদ কমিটির সভাপতি শুকুর আলী বলেন, শুক্রবার (আজ) জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের নিয়ে আরও বৃহৎভাবে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। পরে দুদিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তিনি। এ সময় আরও বক্তব্য দেন গ্রামের বাসিন্দা মো. খোরশেদ আলম ও মো. সেলিম হোসেন প্রমুখ।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email