সিলেটে ছাত্রজনতার উপর হামলা মামলার আসামী নাটোর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা : নৈপথ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার সিবিএ নির্বাচন

ব্যক্তি স্বার্থে দলের নেতার্মীদেরকে ভয়ভীতি ও মামলা-গ্রেফতারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জজুড়ে।  আগামী ১০ ডিসেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা সিবিএ নির্বাচনে ঘিরে এহেন তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপনের বিরুদ্ধে।

সিবিএ নির্বাচনে সাধারন সেক্রেটারী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ওই বিএনপি নেতার ছোট ভাই হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপন। নিজের ভাইয়ের বিজয় পথ ‌ঝুঁকি মুক্ত করতে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর এবার  টার্গেট করে সরাসরি মামলায় ঢুকিয়ে গ্রেফতার করিয়েছেন তিনি। বৃহম্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় কর্মরত ও নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, হারুনুর রশিদ হারুন ও শ্রমিক দল নেতা আরিফ আহমদ।  গত বুধবার এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানায়  দায়েরকৃত একটি মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোধিতভাবে আসামী করা হয় তাদের।

এ মামলার বাদী  স্থাণীয় গোলাগঞ্জ উপজেলার ফুলসাইন্দ গ্রামের মাসুম আহমদ।   সিটি কর্পোরেশনের পদচ্যুত মেয়র আনোয়ারুজ্জামানকে প্রধান আসামী গত ১৩ অক্টোবর  দায়েরকৃত এ  মামলায় সুকৌশলে হারুন ও আরিফের নাম অন্তর্ভূক্ত করতে বাধ্য করা হয়  বলে জানান মামলার বাদি মাসুম আহমদ। গ্রেফতারকৃত নাটোর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন ১৭নং ও শ্রমিক দল নেতা আরিফ আহমদকে ১৮নং আসামী। এঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা এলাকায়   ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। এদিকে,  হারুনকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি করেছেন নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমদ রনি। বিবৃতিতে  অবিলম্বে মিথ্যা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন বিএনপি নেতা এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন। সিলেট জেলা বারের বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীদের পাশ কাটিয়ে নিজে পিপি হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের ছোট ভাই হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপনকে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা সিবিএ এর সাধারণ সম্পাদক বানাতে শুরু করেছেন কূটকৌশল। সম্প্রতি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহিদুজ্জামান চৌধুরী সুফিকে সাথে নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় যেয়ে শ্রমিক ভােটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠে রিপনের বিরুদ্ধে। শ্রমিক সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, সার কারখানায় কর্মরত বৃহত্তর বগুড়া ও ঢাকার শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে সিলেটে ডেকে এনে দফায় দফায় সিলেটে এনে প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন,  ওহিদুজ্জামান চৌধুরী সুফি ও হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপন।  নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপনকে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় বিজয়ী করতে চাপ দেন তারা। সেই সাথে  নির্বাচনে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বীতার চেষ্টা করলে ৫-৭টি মামলায় ঢুকিয়ে জেল কাটানোর হুমকি দেয়ার রয়েছে  অভিযোগ ।

            সর্বশেষ ১১ অক্টোবর সিলেটে তলব করে কঠোরভাবে শাসানো হয় তাদের। কিন্তু শাসানোর পরও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার প্রস্তুতি নেয়ায় ১৩ অক্টােবর ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘট্নায় মামলায় এজাহারভূক্ত আসামী হিসেবে নাম জড়িয়ে দেয়া হয় নাটোর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন ও শ্রমিক দল নেতা আরিফ আহমদকে।

         খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় নিজের ছোট ভাইকে সিবিএ নির্বাচনে  বিজয়ী করতে এ বিএনপি নেতার মরিয়া হয়ে উঠার পেছনে রয়েছে  চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিগত ১৬ বছরে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় হরিলুট করে যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তাদের একজন হচ্ছেন বিএনপি নেতা  এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন ও তার ছোট ভাই শিপনের মামা কামাল আহমদ। পতিত স্বৈরাচারের সাবেক এমপি মৃত মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ও পরবর্তীতে হাবিবুর রহমান হাবিবের ডান হাত ও ক্যাশিয়ার ছিলেন কামাল আহমদ। আর এভাবেই একজন সাধারণ লাইব্রেরী ব্যবসায়ী থেকে কামাল বনে যান শত কোটি টাকার মালিক। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর সারকারখানা লুটপাটের অনেকেই গা-ঢাকা দিলেও চাঁদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা কামাল আহমদ এখনও বহাল তবিয়তে কারন তার ভাগিনা বিএনপি নেতা রিপন।  এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে গ্যাসে সিলিন্ডার সহ বিভিন্ন কাজের কমিশন হিসেবে মাসোয়ারা লক্ষ লক্ষ টাকা  পূর্বে  মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস ও হাবিবুর রহমান হাবিবকে কামাল দিলেও এখন সেই টাকা তুলে দিচ্ছেন নিজের ভাগিনা বিএনপি নেতা রিপন ও শিপনের হাতে।

সেই সাথে গ্যাস সিলিন্ডার সহ সারকারখানার  ব্যবসা বানিজ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মামা কামালের পরামর্শে সিবিএ নেতৃত্ব কর্তৃত্ব করতে তৎপরতা শুরু করেছেন হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপন। ছোট ভাই শিপনের বিজয় সুনিশ্চিত করতে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্বাচর্নী স্টাইল অনুসরনে সক্রিয় হয়েছে উঠেছেন বিএনপি নেতা  এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন। অথচ ফ্যাসিস্ট শাসনামলে এক তরফাভাবে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা সিবিএ’র সবকটি কমিটিতে হুসেন আহমদ পাটোয়ারী শিপন নিজের জায়গা করে নিয়েছিলো আ’লীগের সেবাদাস হয়ে। হামলা মামলা-জেলে লক্ষ লক্ষ বিএনপি নেতা কর্মীর জীবন যৌবন যখন  ছিল বিপন্ন, ওই সময়ও  সুবিধাভোগী রিপন-শিপনদের জীবনে ছিল ভরা যৌবন।

ফেঞ্চুগঞ্জ এক শ্রমিক দলের এক নেতা বলেন, অর্থের লোভে বিএনপি কিছু নেতা সুবিধাভোগীদের বগলে নিলেও, ত্যাগি কর্মীদের মিছিলে ওদের স্থান হবে না। তারা বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা কখন-ই বরদাশত করবে না সুবিধাভোগীদের। তারা স্বৈরাচারের দোসর। সেকারেন বিএনপির দূর্দিনে বিএনপি করেও ছিল তারা নিরাপদ, কারন তাদের লোক ছিল আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী দোসর। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান অবশ্যই আ”লীগের দোসরদের চিহ্নিত করবেন, সেই দোসরদের নিয়ে যারা লড়বে তাদেরও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। কারন তাদের দু’মুখো চরিত্র ও অবস্থানের সুযোগে স্বৈরাচারী হাসিনার গদি দীর্ঘ করতে গুম খুনে মেতে উঠেছিল।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email