পটুয়াখালীর দশমিনায় এক সংখ্যালঘূ পরিবারের দোকানঘর দখল করে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। আজ সোমবার ওই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংখ্যালঘূ পরিবারটি।
দশমিনা উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দিরা রানী শীল। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে স্থানীয় হানিফ সিকদারের ছেলে ও দশমিনা সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কামরুজ্জামান টিপু (৪০) দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দশমিনা সদর ইউনিয়নের আরজবেগী বাজারে তাদের জমি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি কামরুজ্জামান টিপু ও তার ৫-৬ জন সহযোগী আরজবেগী প্রধান সড়কের পাশে কিছু জমি নিজেদের দাবি করে ওই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। পরে শালিশ বৈঠকের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে টিপু মন্দিরা রানীর মা সবিতা রানী শীলের কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই কাগজে দুটি দোকানঘরের দুটি কক্ষ বিক্রির মিথ্যা বিবরণ দিয়ে গত ১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দোকানগুলো দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেন টিপু।
সংখ্যালঘূ পরিবারটি তাদের দোকানের তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাদের কাছে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা কামরুজ্জামান টিপু বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
দশমিনা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামিম খান বলেন, কামরুজ্জামান টিপু দলের কোনো পদে নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই, তবে বিষয়টি সত্যি হলে সংখ্যালঘূ পরিবারটিকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আলীম জানান, ওই হিন্দু পরিবারের পক্ষ থেকে জায়গা-জমি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
