বাউল শিল্পী আবুল সরকারের মুখে আল্লাহর নামে নোংরা ভাষায় কটূক্তি ও ইসলাম-বিদ্বেষী বক্তব্যের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অভিযোগ, শিল্পী আবুল সরকার কেবল আল্লাহ তাআলার নামে অশ্লীল ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেননি, বরং আল্লাহর নামে মিথ্যা বাণী রচনা করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণাও করেছেন। তিনি যে আরবি বাক্য উচ্চারণ করেছেন, তা কুরআনের কোনো আয়াত নয়, এমনকি সঠিক আরবি ভাষাও নয় বলে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের একটি অনুষ্ঠান থেকে হলেও, সাম্প্রতিক ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আবুল সরকার একই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। ওই মঞ্চে তিনি আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এমন সব কথা বলেন, যা ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে আলেম সমাজ পর্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিএনপি নেতৃত্ব আবুল সরকারকে প্রকাশ্যে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৬ নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “বাউলরা বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি, গ্রামবাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের ওপর হামলা উগ্র ধর্মান্ধদের কাজ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “এটা নিঃসন্দেহে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাজ।”
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যকে অনেকে আবুল সরকারের কটুক্তির প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন। এর ফলে বিএনপির অভ্যন্তরেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফরিদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান ইতোমধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল সাহেব আল্লাহকে কটুক্তিকারী বাউলের পক্ষ নিয়ে নিজেও সেই অবস্থানে চলে গেছেন।”
ছাত্রদল ও এনসিপিওলের নেতা-কর্মীরাও সামাজিক মাধ্যমে একই সুরে আবুল সরকারের প্রতিরক্ষায় নেমেছেন।
ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, “বিএনপি যদি সত্যিই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে দ্রুত এই ঘটনার জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা উল্টো অপরাধীকে আগলে রেখে দেশে নতুন করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে।”
এদিকে, আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে মামলা চলছে। তাকে গ্রেপ্তারের পরও বিএনপির একাংশের প্রকাশ্য সমর্থন দেশের ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির এই অবস্থান দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে আরও উসকে দিতে পারে।
দেশবাসী এখন অপেক্ষায় আছে, বিএনপি নেতৃত্ব কবে নাগাদ এই গুরুতর ভুলের জন্য জাতির কাছে মাথা নত করবে।
