ভোট নিয়ে হুমকি দেওয়া বিএনপি নেতা ক্ষমা চেয়েও পার পেলেন না

পঞ্চগড়-১ আসনে (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) বিএনপি প্রার্থীর পক্ষের একটি উঠান বৈঠকে ‘ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দলটির এক নেতাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক যুগ্ম জেলা জজ মিনহাজুর রহমান এই আদেশ দেন।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত এম এ মজিদ পঞ্চগড় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। শুনানি শেষে রায় ঘোষণার পর তিনি জরিমানার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছেন।

এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়-১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনি এজেন্ট নাসির উদ্দীন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এম এ মজিদ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুমকিমূলক বক্তব্যের কারণে এলাকায় আক্রমণ ও সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের পরিপন্থি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করা অভিযোগটি পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি আমলে নিয়ে সোমবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিতে উভয় পক্ষই উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৭৭ (১) (ক), ৭৭ (৩) (খ) অনুযায়ী গঠন করা অভিযোগ অভিযুক্ত এম এ মজিদকে পড়ে শোনানো হয়। এ সময় তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ জন্য তাকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৭৭ (৩) (খ) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড প্রদানের পরিবর্তে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত এম এ মজিদকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমাদানের আদেশ দেন। অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেন। পরে এম এ মজিদ জরিমানার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email