পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ দুই জামায়াত সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের বলরামপুর আলমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন বলরামপুর আলমপাড়া এলাকার মৃত সফিয়ার রহমানের ছেলে আমজাদ হোসেন (৩২) এবং একই এলাকার হাসিবুল ইসলামের ছেলে তারেক মনোয়ার। তারেক মনোয়ার জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী; তার একটি হাত নেই।
আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুরে তারেক মনোয়ারের মা বাড়ির পাশের সবজি ক্ষেত থেকে শাক নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী বিএনপি কর্মী কামিনী রায় নির্বাচন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারেক মনোয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগ করা হয়, তার উপস্থিতিতে কামিনী রায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ফোন দেন। কিছুক্ষণ পর চিলাহাটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল, প্রচার সম্পাদক মালেক, একই ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রফিক, ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা সুলতানুজ্জামান রাজা, বিএনপি সমর্থক শিহাবসহ ৭–৮ জন সেখানে জড়ো হন। পরে তারা তারেক মনোয়ারকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ।
এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনকে ‘জামায়াত সমর্থক’ আখ্যা দিয়ে গতিরোধ করে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন আহতরা। তারেকের মা বাধা দিতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা যায়।
মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
আহত তারেক মনোয়ার বলেন, আমি একজন অসুস্থ মানুষ, আমার একটি হাত নেই। আমি মারামারি করতে যাইনি। আমার মা কয়েকদিন আগে স্ট্রোক করেছিলেন। তাকে সরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপির লোকজন আমাকে কোনো কথা না বলেই মারধর করেছে।
আহত আমজাদ হোসেন বলেন, আমি দোকানের জন্য সার কিনতে ভ্যান খুঁজতে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করা হয়। আমি জানতামই না কী ঘটেছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তুলসী রানী রায় জানান, শনিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে দুইজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে গুরুতর কোনো কাটা বা গভীর ক্ষত পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জামায়াত এবং বিএনপির মধ্যে কোন মারধরের ঘটনা ঘটে নাই। তারা জামাত বিএনপি কী না বলে নাই এমনি লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে স্থানীয়ভাবে তারা একটা তারিক নির্ধারণ করেছে বসার জন্য।
