স্কুলঘেঁষে বিএনপি নেতার পুকুর খনন, দুর্ঘটনার শঙ্কা

নওগাঁর বদলগাছীতে মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভবন থেকে মাত্র চার ফুট দূরত্বে এক একর জমিতে গভীর পুকুর খননের কাজ শুরু হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বিদ্যালয় ঘেঁষে পুকুর খননের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার আগে যথাযথ অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেননি। দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও স্থায়ী সমাধান না হলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে– এমন আশঙ্কা সবার মধ্যে বিরাজ করছে।

মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও  মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝখানে পুকুরটির অবস্থান। সরেজমিন দেখা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এর দূরত্ব আনুমানিক চার ফুট। বিদ্যালয় ঘেঁষেই খননকাজ চলছে। খননের গভীরতা ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলছেন স্থানীয়রা। ফলে ছোট শিশুদের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পুকুর খননের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এক্সক্যাভেটর (ভেকু)। খনন করা মাটি ট্রাক্টরে করে নেওয়া হচ্ছে ‘এনআরবি’ নামে একটি ইটভাটায়। এই ভাটাটি আরিফ নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন।

অভিভাবকরা বলছেন, রাতের আঁধারে খননকাজ চালিয়ে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত কাজ বন্ধ থাকলেও দুশ্চিন্তা কাটেনি। কেননা, যেভাবে পুকুরটি খনন করা হয়েছে, তাতে ছোট শিশুরা যে কোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। পুরো বিষয়টি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুলে শিক্ষার্থী পাঠানো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, ‘খনন শুরুর সময় আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। স্কুলের সামনে এত গভীর গর্ত হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেখানে পুকুর খনন হচ্ছে, সেটি মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি। দীর্ঘদিন সেখানে একটি ডোবার মতো জায়গা ছিল। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ডোবাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। তবে হঠাৎ করেই পুকুর খননের কাজ শুরু হয়।

মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জমিটি হাই স্কুলের। আমি স্কুলের সভাপতি। স্কুলের স্বার্থে পুকুর খনন করছি।’

মাটি ইটভাটায় বিক্রির বিষয়ে বলেন, ‘স্কুলের প্রয়োজনে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সমস্যা কোথায়?’ প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা–এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাঁকে ফোন করে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় দরখাস্ত দিতে বলেছেন। অনুমতির প্রক্রিয়া চলছে।

মিঠাপুকুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, জমিটি আমাদের বিদ্যালয়ের। সেখানে আগে ডোবা ছিল। সেখানে পুকুর খননের বিষয়ে সভাপতি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি রেজুলেশন হয় নাই বা কমিটিতে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এমন খনন নিরাপদ নয়।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুর খননের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া এভাবে খনন করা যাবে না।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email