বরিশাল ও ঝালকাঠির বাস শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল-ঝালকাঠি রুটসহ ছয়টি রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে ঝালকাঠিসহ ছয়টি রুটে কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সিদ্ধান্তে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সকাল থেকেই যাত্রীরা বিকল্প যানবাহনের জন্য ভোগান্তিতে পড়েন।
জানা গেছে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রূপাতলী বাস টার্মিনালে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির একটি বাসের দুই স্টাফ মারধরের শিকার হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির লোকজন তাদের বাস রূপাতলী টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নেন। বর্তমানে তারা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঝালকাঠির প্রবেশমুখ কালিজিরা সেতুর ঢালে অস্থায়ী টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল অব্যাহত রেখেছেন।
বরিশাল বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির লোকজন তাদের বাস রূপাতলী টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ স্ট্যান্ড চালুর চেষ্টা করছে। আগেও এ ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল। এখনো সেই চেষ্টা চলছে। এ কারণে বিভিন্ন অজুহাতে বাস সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, রূপাতলী থেকে কোনো বাস ছেড়ে গেলে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা সেটি ঢুকতে দিচ্ছে না এবং মারধরের হুমকি দিচ্ছে। এতে বরিশাল-ঝালকাঠি, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, পিরোজপুর, বাগেরহাট ও খুলনা রুটে বাস চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বরিশাল-পটুয়াখালী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে বাস প্রবেশের সময় বিভিন্ন ধাপে চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া রাতে তাদের লোকজন গাড়িতে উঠে মাদক সেবন করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে শ্রমিকদের মারধরের শিকার হতে হয়। রবিবার ঝালকাঠি সমিতির দুই শ্রমিককে মারধর করে আহত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কালিজিরা সেতুর আগে বরিশাল নগরীর প্রবেশমুখে অস্থায়ী স্ট্যান্ড থেকে বাস পরিচালনা করা হবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করেন না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি জানান।
