কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাড়ির মালিক হাজী মো. রইছ উদ্দিনের স্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাজী মো. রইছ উদ্দিন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় মামলার এজাহার দায়ের করেছেন। হাজী মো. রইছ উদ্দিন উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি। অভিযুক্ত এরশাদ করিমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যুবদল নেতা এরশাদ প্রায় ছয় মাস আগে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মো. রইছ উদ্দিনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি আবারও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এরশাদের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রইছ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা তিনটি বসতঘরের দরজা, জানালা ও বেড়ায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, স্যুটকেস, আলমিরাসহ ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ সময় রইছ উদ্দিনের স্ত্রী আলেকজান আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর এরশাদ ও তার সহযোগীরা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠে। আত্মগোপনে থাকা বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আহত আলেকজান আক্তার বলেন, ‘তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এমন ধ্বংসযজ্ঞ আমি আগে কখনো দেখিনি। বাধা দিতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা চালায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
ভুক্তভোগী হাজী মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘এরশাদ এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ও জিয়া নামে আরেকজন তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা এরশাদ বলেন, ‘মারামারি বা কাটাকাটির এ ঘটনায় আমি কিছুই জানি না।’
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবিরের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
