বরিশালে হামলা-লুটের অভিযোগে বিএনপির দলীয় ব্যবস্থা

বরিশাল চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুম বেপারীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মারধরের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

রোববার (৯ মার্চ) বেলা ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন চরমোনাই শালুকা গ্রামের বাসিন্দা মো: জামাল শিকদার (৪৬)।

অভিযুক্ত মাসুম বেপারীর বিরুদ্ধে আগামী দুই থেকে এক দিনের মধ্যেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বরিশাল চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাসুম বেপারী ‘বুখাইনগর তাসমি ইলেকট্রনিকস এন্টারপ্রাইজ (বুখাইনগর বাজার) মার্সেল শো রুম থেকে একটি ফ্রিজ ক্রয় করেন। ২০২৫ সালে ফ্রিজটি ত্রুটি দেখা দিলে ফ্রিজটি মার্সেল শো রুমের সামনে রেখে যান। ফ্রিজটি আমার ভাই কোম্পানির সার্ভিস সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ছয় হাজার টাকা এবং যাতায়াত খরচ ১৫০০ টাকা খরচ হয়। মাসুম বেপারী তিন হাজার টাকা আমার ভাইকে দিলে তিনি ফ্রিজটি তার বাসায় পাঠিয়ে দেন। এর তিন থেকে চার দিন পর আবার ফ্রিজটি রেখে যান। ওয়ারেন্টির দায় ডিস্ট্রিবিউটরের নয়, এটা কোম্পানির বিষয়, তা বলার পরও আমার ভাইয়ের কাছে নতুন ফ্রিজ দাবি করে আসছে মাসুম বেপারী। ঘটনার দিন ইফতারি ও নামাজের পর আমার ভাই দ্বিতীয় তলা থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে নিচে নেমে আসার সাথে সাথে মাসুম বেপারীর দুই ছেলে আরাফাত ও সরাফাতসহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে আমার ভাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে মারধর করে। ঘটনাস্থলে ভাই বেহুঁশ হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় হামলাকারীরা আমার ভাইয়ের শো রুম থেকে নতুন একটি ফ্রিজ এবং দোকানে থাকা আট লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যান।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার ভাই মো: শাহ আলম সিকদার গত চলিত বছর বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের খুঁজতে থাকেন। চলিত মাসের (৬ মার্চ) রাত ১টার দিকে আমার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে পুলিশের সাথে ওদের বাড়িতে যায়। পুলিশ আসামিদের না পেয়ে চলে যান। আমার ভাই কামাল সিকদার এবং আমার ছেলে নকিব সিকদার ও আয়নাল তিনজন বাসায় ফেরার পথে তাদের ওপর হামলা করেন। প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়ে কামাল সিকদারকে রামদা দিয়ে মাথায় জখম করেন।’

স্থানীয়রা আহত কামালকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠান। আমার ছেলে নকিব সিকদারকে জোরপূর্বক অপহরণ করে মাসুম বেপারির ও তার ছেলেরা তাদের বাড়ি নিয়ে বেদম মারধর করেন। স্থানীয়রা আহত নকিবকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাসুম বেপারীর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ রেখেছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়ে দিয়েছেন, দলের মধ্য চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীসহ অপরাধমূলক কার্যক্রমে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর অভিযুক্ত মাসুম বেপারীর বিরুদ্ধে আগামী দুই থেকে এক দিনের মধ্যেই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email