ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এর মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (এরেস্ট ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
জানা গেছে, গ্রেফতারি পরোয়ানায় থাকা আসামিদের তালিকায় ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী শেখ রমজান আলী রকিও রয়েছেন। তিনি হল সংসদ নির্বাচনে ৩০৪ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৬৪১ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হন শিবিরের প্যানেলের খন্দকার মো. আবু নাঈম। এছাড়া আরও জানা যায়, শেখ রমজান আলী রকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী।

আসামিরা হলেন- মোঃ জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, রাশেদ কামাল অনিক, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, আশরাফ আলী মুন্সী, সুমন মিয়া, আবু রায়হান, ওয়াজিবুল আলম, রাব্বিকুল রিয়াদ, ফিরোজ কবির, শেখ রমজান আলী রকি, আব্দুস সামাদ, মনিরুজ্জামান সোহাগ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী।
তালিকাভুক্ত আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছেন। ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা নিয়মিত হলেই থেকে আসছিলেন।
অন্যদিকে, জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। অপর ২২ আসামি পলাতক রয়েছেন।
ফজলুল হক মুসলিম হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, শেখ রমজান আলী রকিকে আমরা নিয়মিত হলে ও ক্যাম্পাসে ওপেনলি চলাচল করতে দেখেছি। তবে ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার পর অর্থাৎ গতকাল থেকে কোথায় আছে তা আমরা জানি না।
চার্জশিটে নাম থাকার বিষয়ে নিজের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে শেখ রমজান আলী রকিকে একাধিকবার কল দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এ অভিযোগপত্রে নারাজি দিবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি নারাজি জমা দেননি। এজন্য আদালত আজ মামলার ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। পলাতক থাকায় ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে ৩২ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেন নির্যাতনের শিকার হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তোফাজ্জলকে মারধরের আগে তাকে ভাত খাওয়ানো হয়, তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভাত খেতে তার কেমন লাগছে। রাত ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরেরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই ঘটনায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।
