স্বামীর বিচার চাইতে গিয়ে বিএনপি নেতার হাতে ধর্ষণের অভিযোগ গৃহবধূর

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্থানীয় বিএনপি নেতার কাছে স্বামীর বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ওই নেতার হাতে এক গৃহবধূ (২০) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ চরআবাবিল ইউপির মিতালি বাজারের পাশে গাইয়ারচর গ্রামে অভিযুক্তের পানের বরজে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম চরআবাবিল ইউনিয়নের গাইয়ারচর গ্রামের লুতু মিয়া মিজির ছেলে এবং ওই ইউপির ৬ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

‎লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে ওই ভুক্তভোগীর পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ২২ মার্চ বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের কাছে এর বিচার চান ওই গৃহবধূ। পরে সুযোগ বুঝে গৃহবধূকে বাড়িতে না নিয়ে পানের বরজে ডেকে নিয়ে জাহাঙ্গীর ধর্ষণ করেন। এ ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর আমি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বললে আমাকেও হুমকি দেওয়া হয়। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে গত ৭ দিনেও আমি বিচার পাইনি। আমি বিচার চাই। অভিযোগ তুলে নিতে প্রতিনিয়ত জাহাঙ্গীরসহ তার খালাতো ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বিল্লাল মৈশাল আমাকে হুমকি দিচ্ছেন।

তবে বিল্লাল মৈশাল বলেন, মামলার বাদীর স্বামীর সঙ্গে পূর্বের বিরোধ রয়েছে জাহাঙ্গীরের। সেই প্রতিশোধ নিতে এ ধর্ষণের অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে তারা। এসপি সার্কেলও ঘটনা তদন্ত করছেন। আমাদের থানায় ডেকেছেন।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি মেয়েটি ও তার স্বামীর ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল রায়পুর ও রামগঞ্জ) জামিলুল হক বলেন, জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল ও মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু সমস্যা পেয়েছি, তা তদন্ত চলছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email