বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও জমি দখলের অভিযোগ

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জমি দখল ও দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ভুক্তভোগীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক সেনা সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবুল কালাম আজাদ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরি ও ব্যাংক ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। গরুর খামারের জন্য ঢাকা ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ২০২২ সালে তিন দফায় মোট ২৩ লাখ টাকা নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও ঋণের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, টাকা ফেরতের দাবিতে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো ফল না পেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

অন্য ভুক্তভোগী মো. গোলাম আজম অভিযোগ করেন, তার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘ভাড়াটিয়া থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি ও বসতবাড়ির দলিল নিজের নামে নিয়ে নেন। পরবর্তীতে আদালত ওই দলিল বাতিল ঘোষণা করলেও এখনো তিনি সম্পত্তি দখল করে আছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা হুমকি, ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমনকি তাদের নিজস্ব ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরা হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কেবল আশ্বাস ছাড়া বাস্তব কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত এবং দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করার দাবি জানান তারা।

তবে সমকালের কাছে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। উল্টো অভিযোগকারী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেই ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি। তিনি এই দু’জনের কাছে ‘পাওনা টাকা’ ফেরত চেয়ে ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email