গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তরুণ নাঈমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজের নির্দেশে তার অনুসারীরা তাকে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুরের কোচেরচর এলাকার তার নানার বাড়ি থেকে তুলে আনে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কাপাসিয়ার কড়িহাতা ইউনিয়নের বেহাইদুয়ার গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত মো. নাঈম একই এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে।
নাঈমের মা মমতাজ আক্তার সারমিন বলেন, নাঈমকে দুই মাস আগে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এরপর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর নাঈম আর এলাকায় আসার সাহস পায়নি। রিয়াজের ভয়ে নাঈম দুই মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সোমবার মনোহরদীর দৌলতপুর কোচেরচর এলাকায় তার নানার বাড়িতে বেড়াতে যায় নাঈম। বিষয়টি রিয়াজের লোকজন জানতে পেরে মঙ্গলবার সকালে ১৫টি অটোরিকশায় সোহেল, আনোয়ার, জামালরা সেখানে যায়। তারা আমার ছেলেকে ধরতে বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে। তখন কারণ জানতে চাইলে তারা বলে ‘রিয়াজ ভাইয়ের নির্দেশ তাকে ধরে নিয়ে যেতে হবে।’ পরে তাকে মারতে মারতে অটোরিকশায় উঠিয়ে নিয়ে আসে। পরে কড়িহাতা ইউনিয়নের বেহাইদুয়ার এলাকায় বাতেন মিয়ার বাড়িতে এনে কুপিয়ে হত্যা করে রবির দোকানের সামনে লাশ ফেলে রাখে। রিয়াজের অনুসারী ফরহাদ, হুমায়ূন, জামাল, আনোয়ার, মোজাম্মেল, শামীম, সোহেলসহ ৪০-৫০ জন এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে।
মমতাজ আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যায়। পরে আমরা থানায় গিয়ে ওসিকে ঘটনা বললে তিনি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। রিয়াজের লোকজন হুমকি দিচ্ছে। আমার আরেক ছেলে ও স্বামীকেও তারা হত্যা করবে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, ঘটনার পর পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। বাদীকে মামলা করতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মমতাজের অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে। আমরা মামলা নেওয়ার জন্য বসে আছি।
হত্যার ঘটনা কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর নিহতের পরিবারের সদস্যদের গুমের চেষ্টা করা হয়। বুধবার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে নাঈমের মা মমতাজের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার নম্বরে ফোন করা হলে অপর প্রান্ত থেকে কেউ রিসিভ করছে না। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
বিএনপি নেতা শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ নিজেকে বাঁচাতে গাজীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় রিয়াজুল হান্নান যমুনা টিভিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে অপপ্রচার হিসাবে আখ্যা দেন এবং বলেন, ওই তরুণকে মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণে এলাকাবাসী পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনাটি ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু প্রচার করা হচ্ছে রিয়াজের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা তাকে হত্যা করেছে। তিনি কাপাসিয়া থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।
