সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, বিএনপি করার কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে এক বিএনপি সমর্থক পানিতে চুবানো ও মারধরের শিকার হয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক লাঠি দিয়ে এক ব্যক্তিকে মারধর করছেন এবং জোর করে পানিতে নামিয়ে অজু–গোসল করতে বাধ্য করছেন।
এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এবং এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, রাজশাহী–৫ (পুঠিয়া ও দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে যুবদল নেতার একজনকে মারধরের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাব-চ্যানেল ‘Desh 24’ নামক পেইজে একই ভিডিও পোস্ট হতে দেখা যায়। এ ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, “পুঠিয়ায় বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করায় পুকুরে চুবিয়ে নির্যাতন করলো বিএনপি নেতা ভুট্টু।”
গুগলে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে এ প্রথম আলোতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহীর পুঠিয়ায় কাঠমিস্ত্রি মইদুল ইসলামকে (৫০) বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মারধর ও পুকুরে নামিয়ে জোর করে ‘অজু–গোসল’ করানো হয়েছে। পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেন লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং পানিতে ডুব দিয়ে ‘ভুল’ স্বীকার করতে বাধ্য করেন।
আলী হোসেন নিজে প্রথম আলোর কাছে ঘটনার সত্যতার কথা স্বীকার করেছেন।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা পানিতে চুবানো ও মারধরের ঘটনাটি জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতে কোনো বিএনপি সমর্থকের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি বিএনপির এক নেতার দ্বারা বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের ঘটনা।
