একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগে করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীর এক বিএনপি নেতাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত।
রোববার দুপুরে রাজশাহী মহানগর হাকিম আদালত-৩ এর বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাজশাহী মহানগর আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুর রফিক।
রোববার বিকালে তিনি বলেন, “ঘটনার দিন কারাগারে অবস্থান করেও বাইরে হামলার অভিযোগ এনে মামলা করায় আদালত তাকে (বিএনপি নেতাকে) দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
“আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, সাত দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক চালানের কপি জমা দিতে হবে। অন্যথায় বাদীকে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।”
পরিদর্শক বলেন, এ ছাড়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করা দুই আসামিকে জরিমানার অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদ হোসেন নগরের বেলুয়া খোলাবোনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ অগাস্ট রাজশাহী মহানগর পুলিশের দামকুড়া থানায় একটি মামলা করেন সাজ্জাদ হোসেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন কসবা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং অস্ত্রের মুখে হুমকি ও মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বাদলসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।
তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, অভিযোগের তারিখে সাজ্জাদ হোসেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। ফলে তার করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
আদালতের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে কারাভোগ করতে হবে।
মামলাটি মিথ্যা ছিল কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো আসলে রাজনৈতিক মামলায় জেলে ছিলাম। মামলা করার সময় বিষয়টা মনে ছিল না। আদালতে যখন প্রমাণিত হয়েছে, তখন মামলা মিথ্যাই ছিল।
