কুমিল্লার চান্দিনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পুকুর ভরাট করছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। প্রশ্ন উঠে ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে।
উপজেলা সদরের মহারং এলাকার এক একর একত্রিশ শতাংশের ওই পুকুরটি অত্র অঞ্চলে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রেখেছে অপরদিকে স্থানীয় কৃষকদের রেখেছে স্বস্তিতে। পুকুরটি ভরাট হলে বিপাকে পড়বে শতাধিক পরিবার। পুকুরটি ভরাট বন্ধে স্থানীয় এক বাসিন্দা জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
জানা যায়, চান্দিনা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ূম খান গত বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল রাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ড্রাম ট্রাকযোগে বালু এনে ওই পুকুরের ভরাট কাজ শুরু করেন। টানা কয়েক দিন দিন-রাত ভরাট কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়েন তিনি। তবে পুকুর ভরাটের বিষয়টি অস্বীকার করেন কাইয়ূম খান।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিমুজ্জামান জানান, প্রায় ৫শ বছর আগে খননকৃত পুকুরটির চারপাশে অন্তত কয়েকশ পরিবারের বসবাস। কাইয়ূম খান ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক পুকুরটি ভরাট করছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা সদরের বেশ কয়েকটি পুকুর অবৈধভাবে ভরাট করে আবাসন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে উপজেলা সদরের বাসিন্দারা ব্যবহারযোগ্য পানির সংকট থেকে শুরু করে কোনো প্রকার অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানি শূন্যতায় ভোগে। বর্তমানে ওই পুকুরটি ভরাট করলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা বিরাজ করছে।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কাইয়ূম খান। তিনি বলেন পুকুরটি আমার খরিদকৃত। আমি পুকুর ভরাট করিনি। দীর্ঘদিন যাবত পুকুরের পাড় ভরাট না করায় পুকুরের পাড় বিলীন হয়ে গেছে। আমি পুকুরের পাড় ভরাট কাজ শুরু করেছি। সেখানে আমার কিছু যানবাহন রাখার জায়গাও হবে।
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি সেখান কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। বিষয়টি আমি সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করব।
