রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের আত্মপ্রকাশ, চার দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্যানারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী বরাবর শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে ৪ দফা দাবি পেশ করেন তারা। ৪ দফা দাবি পেশ করার পর তারা যবিপ্রবিতে রাজনীতি নিষিদ্ধের আইনকে পুনর্বিবেচনা করার এবং ক্যাম্পাসে মুক্ত চিন্তার রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ টি বিভাগের জন্য বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (BAC) থেকে স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক আবেদন জমাদান অনুষ্ঠানে যবিপ্রবিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন আসলে তার কাছে এ স্মারক লিপি দেন যবিপ্রবির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপির দাবী গুলো হলো:
১. ক্যাম্পাসের জায়গা বৃদ্ধিকরণকরণ।
২. যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, এর মধ্যে আছে চুড়ামনকাঠি থেকে বেলতলা পর্যন্ত দুই লেন বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণ করতে হবে, পালবাড়ি থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত শাটল বাস/ট্রেন সার্ভিস চালু করতে হবে, বিদ্যমান পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে (বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি)।
৩. মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন
৪. লাইব্রেরি সম্প্রসারণ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু।

যবিপ্রবির বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সালেক খান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নিকট শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও সুবিধা নিশ্চিতকরণে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—প্রথমত, ক্যাম্পাসের জায়গা বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়ত, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন; যার মধ্যে চুড়ামনকাঠি থেকে বেলতলা পর্যন্ত দুই লেন বিশিষ্ট সড়ক নির্মাণ, পালবাড়ি থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত শাটল বাস/ট্রেন সার্ভিস চালু এবং বিদ্যমান পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি (বাসের সংখ্যা বাড়ানো), তৃতীয়ত, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, চতুর্থত, লাইব্রেরির সম্প্রসারণ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালু করা। আমরা আশা করি নতুন উপাচার্যের মাধ্যমে অতি দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া তিনি ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে বলেন, সবারই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আমরা যবিপ্রবি ছাত্রদল চায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল শিক্ষার্থী মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতি চর্চা করতে পারুক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নিয়মাবলীতে যে সকল ধারা রাজনীতি নিষিদ্ধ করে রেখেছে, সেগুলো দ্রুত প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তারা।

রাজনীতি নিষিদ্ধের আইন পুন:বিবেচনার কথা জানিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আরেক শিক্ষার্থী জি. এম. মাহমুদ রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো নানা মত ও নানা পথের মানুষের মিলনস্থান। এখানে ভিন্নমতের সহাবস্থানই জ্ঞানচর্চার মূল ভিত্তি। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন দ্বারা স্বীকৃত সকল সংগঠনের নিজস্ব নীতি ও আদর্শ প্রকাশ ও প্রচার করার অধিকার রয়েছে, এটি একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত অংশ। তাই সকলের কাছে কাম্য হওয়া উচিত যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মাধ্যমে এই বহুমাত্রিক পরিবেশকে সমুন্নত রাখা।

উল্লেখ্য, যবিপ্রবি’র ১০৩ তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও যবিপ্রবির সকল শিক্ষার্থীদেরকে ‘‘Rules of Discipline for Students’’ এর Part-1 এর General Rules এর ধারা (Students must not be involved in politics directly or indirectly within the University premises (meeting, demonstration, forming human-chain, creating obstacles to any academic activities); but with the permission of lawful authority of the university and proctor/provost, organizational/other activities can be permitted.) এবং কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে “যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১” এর ধারা ৪৭ (৫) এবং “সাধারণ আচরণ, শৃঙ্খলা ও আপীল সংক্রান্ত বিধি” এর বিধি-৩ এর (জ) (“কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রাজনৈতিক মতামত প্রচার করিতে পারিবেন না বা তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সহিত জড়িত করিতে পারিবেন না।”) যথাযথ অনুসরণ করার জন্য বলা হয়। উপরোক্ত আইন/বিধি ও সিদ্ধান্তের আলোকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সকল প্রকার রাজনীতি সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়। যবিপ্রবির উক্ত আইনের ধারা ও এ আদেশ অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শাস্তি প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email