ঢাবিতে হাদির বিচার দাবিতে আঁকা দেয়াল লিখন মুছে দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ঢাবিতে হাদির বিচার দাবিতে আঁকা দেয়াল লিখন মুছে দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আলপনা আঁকতে গিয়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে লেখা দেয়াল লিখন ‘জাস্টিস ফর হাদি’ মুছে দিয়েছে হল শাখা ছাত্রদল। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

গত ১৩ এপ্রিল রাতের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখা যায়, সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশুর নেতৃত্বে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে লেখা দেয়াল লিখনটি মুছে দেওয়া হয়। তবে সেখানে বৈশাখী বা অন্য কোনো আলপনা আঁকা হয়নি।

এ নিয়ে সূর্য সেন সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক মো ইমরান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, স্বয়ং হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশু এ কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

হলের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে মো. ইমরান বলেন, ‘সূর্য সেন হল সংসদের শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবি সম্বলিত দেয়াল লিখন মুছে দিয়ে ছাত্রদল নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করেছে। ছাত্রদলের মনে রাখা উচিত, ওসমান হাদির লড়াই-সংগ্রামকে কেবল দেয়াললিখন মুছে আড়াল করা যাবে না।

হল সংসদের সদস্য সাইয়েদুন নুর আলভি বলেন, তারা এখন ক্ষমতায়। যা ইচ্ছে করবে। এখন হল গেইটের দেওয়ালের লেখা মুছে দিয়েছে, কয়েকদিন পর ভিতরের হাদি ভাইয়ের গ্রাফিতিটাও মুছে দেবে।

সূর্য সেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হৃদয় হোসাইন রকি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘শেম! যেখানে তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বরের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে, পরদিন সবার আগে কবর জিয়ারত করেছে; সেখানে ওসমান হাদির বিচার সংশ্লিষ্ট দেয়াল লিখন মুছে ফেলে তারা এটাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমান মিশু মো. ইমরানের ঐ পোস্টের কমেন্টে লিখেন, ‘লিখন, গ্রাফিতি এগুলো চিরস্থায়ী রাখার জিনিস না। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী অঙ্কন করা হয়, আবার মোছা হয়। আবার অন্য কেউ করে। এটাই স্বাভাবিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওসমান হাদীর সবচেয়ে বড় গ্রাফিতিটা সূর্যসেন হলে আছে। এছাড়াও অসংখ্যবার ওসমান হাদীর বিচার চেয়ে দেয়াল লিখন রয়েছে হলে।’

তিনি লেখেন, যাইহোক, নববর্ষ উপলক্ষ্যে মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদল দেয়াল অঙ্কন ও আলপনার কাজ করেছে। সেখানে হাদীর বিচার চাওয়া লিখাটা আমরা মুছেছি। উদ্দেশ্য ছিল সেখানে নববর্ষের শুভেচ্ছা টাইপোগ্রাফি করা হবে কিন্তু চারুশিল্পীদের ব্যস্ততার কারণে সেটা আর হয়ে ওঠেনি।

 

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email