খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগার লবীর উপস্থিতিতে মহানগরীর বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে প্রবীণ চিকিৎসক নেতা রফিকুল হক বাবলুকে লাঞ্ছনার ঘটনায় চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দিয়ে সংসদ সদস্যের নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরীর সাতরাস্তা মোড়ে বিএমএ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা জেলা কমিটি এবং বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) খুলনা জেলা ও বিভাগীয় কমিটি পৃথক বিবৃতিতে ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
গত ১৩ এপ্রিল বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য আলী আসগার লবী। এ সময় তাঁর সঙ্গে আসা কয়েকজন বিএনপি নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যায়িত করে গালাগাল করেন এবং তাঁর দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে মব তৈরি করে তাঁকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তখন সংসদ সদস্য ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটি ভেঙে দিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন।
ডা. রফিকুল হক বিএমএ খুলনা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ড্যাবের জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গত বুধবার রাতে খুলনা মহানগর ড্যাবের সভাপতি মোস্তফা কামাল, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস এম আকরামুজ্জামান, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল হক ও বিভাগীয় কমিটির সদস্য স ম গোলাম আজমের স্বাক্ষর করা একটি বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নতুন ট্রাস্টি বোর্ড (বিএনএসবি) গঠন করে, যার চেয়ারম্যান করা হয় ডা. রফিকুল হক বাবলুকে। তিনি সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে হাসপাতালের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অজ্ঞাত কারণে সংসদ সদস্যের সামনেই খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মীর কায়েসেদ আলী, সাবেক সহসভাপতি শেখ ইকবাল হোসেন, বর্তমান সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ হোসেনসহ আরও কয়েকজন ডা. বাবলুকে যেভাবে অপদস্থ করেছেন, তা তাদের গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। সেখানে একটি চলমান ট্রাস্টি বোর্ডকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এইভাবে হুটহাট করে ভেঙে
দেওয়া আইনসম্মত নয়। চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি করার জন্য যে বিশেষ
প্রক্রিয়ার মধ্যে যাওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে আলোচনার জন্য বারবার অনুরোধ করার পরেও কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; যা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও অনভিপ্রেত।
একই দিন পৃথক বিবৃতিতে বিএমএর খুলনা জেলা সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে প্রবীণ ও জনপ্রিয় চিকিৎসক নেতার সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় খুলনার চিকিৎসকদের মধ্যে
তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকরা এই ঘটনার দ্রুত প্রতিকার চান। এ ছাড়া
বিবৃতিতে ডা. রফিকুল হকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়।
