যুবদলের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত দুই বছর ধরে সারা দেশে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে অনেককে। এসব সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা কমেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ   উঠেই চলেছে। একের পর এক অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হচ্ছে যুবদল।

সর্বশেষ রাজধানীর শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় যুবদল নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার ঢাকার শ্যামলীতে কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে যুবদল নেতার পরিচয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হয় এবং র‍্যাব সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

চাঁদাবাজির এ ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সিকেডি হাসপাতালে যান। তারা ঘটনায় জড়িত মো. মঈন উদ্দিনসহ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও পাথর নিক্ষেপ করে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায়ও যুবদলের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনায় সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচজন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ‘সুপার সিক্স’ কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০২৪ সালের ৯ জুলাই। এতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক, রেজাউল করিম পলকে সিনিয়র সহসভাপতি, বিল্লাল হোসেন তারেককে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কামরুজ্জামান জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়। তবে ঘোষণার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই কমিটি এখনও পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত না হওয়ার পেছনে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়ী। তাদের ব্যর্থতার কারণে সারা দেশের বহু সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি এবং কেন্দ্রীয় কমিটিও পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। এ অবস্থায় যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের দাবি তুলছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, নতুন নেতৃত্ব এলে সংগঠনের কার্যক্রমে গতি ফিরবে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের দাবি, অতীতের যেকোনো কমিটির তুলনায় বর্তমান কমিটি নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছে।

যুবদলের সভাপতি মুনায়েম মুন্না প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, মামলা, পুলিশি হয়রানিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তারা সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ অন্যায় করার চেষ্টা করলেও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email