চট্টগ্রামে ছাত্রদল–শিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ, শিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘জুলাই–আগস্ট’ আন্দোলনসংক্রান্ত দেয়ালচিত্র (গ্রাফিতি) মুছে নতুন করে লেখা ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে এক ছাত্রশিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে, যা বেলা ১২টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একজন ছাত্রশিবির কর্মীকে অন্য নেতাকর্মীরা রিকশায় তুলছেন। ভিডিওতে তার পায়ের নিচের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং গোড়ালি থেকে পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা দিতে আসা আমাদের কর্মীরা অপ্রস্তুত অবস্থায় হামলার শিকার হয়েছেন। এটি পরিকল্পিত আক্রমণ। ওই কর্মী তাদেরই একজন এবং সংঘর্ষের সময় তিনি গুরুতর আহত হন।

একইভাবে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রশিবির হামলা করেছে বলে ছাত্রদল দাবি করেছে। তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও কলেজ প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে ‘জুলাই–আগস্ট’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আঁকা গ্রাফিতিতে লেখা ছিল—“ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস”। এরপর কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে গিয়ে গ্রাফিতির অংশ পরিবর্তন করে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ শব্দ লিখে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি স্লোগান, অবস্থান ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ক্যাম্পাস ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। প্রায় এক ঘণ্টা চলা এই সংঘর্ষের পর পুলিশ ও কলেজ শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ওই ঘটনায় ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল করলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও কিছু পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স পর্যায়ের নির্ধারিত পরীক্ষা চলমান রাখা হয়েছে। কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।

নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা সংঘর্ষ চাই না, সহাবস্থান চাই।

অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আরও সংবাদ: https://samakal.com/whole-country/article/348585

https://thedhakadiary.com/news/16778

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email