শিশু পার্কের জমিতে মাছবাজার বিএনপি নেতার নামে ইজারা

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী বাজারে শিশু পার্কের নির্ধারিত জমিতে আওয়ামী লীগের সময়ে পাইকারি মাছ বিক্রির অবৈধ বাজার স্থাপিত হয়। আওয়ামী লীগ পতনের পর সেই বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অবৈধভাবে বাজারটি এক বিএনপি নেতাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
বাজারটি ইজারা নেওয়া বিএনপি নেতার নাম সাইফুল আলম আব্বাস। তিনি সদর উপজেলার বিএনপির সদস্য সচিব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ বাজারটি থেকে বছরে ১০ লাখ টাকার বেশি অবৈধভাবে আদায় হয়। বর্তমানে নামমাত্র মূল্যে ইজারার নামে ওই বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই টাকা ভাগাভাগির আয়োজন করেছেন।
জানা গেছে, তালতলী বাজারে নদীর তীর ঘেঁষে গণপূর্তের ৯ একর জমি ছিল। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সেখানে শিশু পার্ক করার জন্য চার একর খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়। এর আগে থেকে সেখানে মাছ বিক্রির পাইকারি বাজার স্থাপন করেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা নিরব হোসেন টুটুল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে বাজারটি গড়ে ওঠায় সেটা ইজারা হতো না। গতবছরের চৈত্রে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতা আব্বাসের নামে বাজারটি ইজারা দেয় চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ। আব্বাস সেটি ১১ লাখ টাকায় কালু সিকদার নামক এক মাছ ব্যবসায়ীর বিক্রি করেন। এবারও ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্বাসের নামে বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, আইনমতে ইউনিয়ন পরিষদ সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাটবাজার ইজারা দিতে পারে। এর বেশি হলে উপজেলা পরিষদ থেকে ইজারা দিতে হয়। তালতলী অবৈধ মাছ বাজার ইজারা দিতে লুকোচুরি করেছে ইউনিয়ন পরিষদ। ৬ লাখ টাকা ইজারা দেওয়া হলেও সেটা কাগজপত্রে ২৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
জানতে চাইলে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বাজারটি বিএনপি নেতা আব্বাসকে ইজারা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে দুই বছরে বাজারটি কত টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে– এ বিষয়ে তথ্য দিতে অপরাগতা জানান।

চলতি বছরও মাছ বাজার ইজারা পাচ্ছেন জানিয়ে আব্বাস বলেন, ‘আমার নামে পোলাপানে (কর্মী) শিডিউল কিনে জমা দিয়েছে। দরদামের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কালু সিকদার বলেন, গত বছর আব্বাস কত টাকায় ইজারা পেয়েছেন, তা জানি না। তবে তাঁর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকায় পাঁচজন আড়তদার কিনে নিয়েছি।
ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, শিশু পার্ক স্থাপনের জন্য চার একর জমিতে প্রাচীর ঘিরে রাখা হয়েছে। খালি জায়গা পেয়ে পার্কের জমিতে অবৈধভাবে মাছ বাজার বসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর ইউএনও মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, পার্কের নির্ধারিত জমির মধ্যে মাছ বাজার বসানো হয়েছে সেটা বেআইনি। ইউনিয়ন পরিষদ চাইলেই এ বাজার ইজারা দিতে পারে না।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email