ভোটে অংশ নিতে এনআইডির তথ্য বদলের অভিযোগ মৎস্যজীবী দলের নেতার বিরুদ্ধে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পরিচয়পত্রের(এনআইডি) তথ্য পরিবর্তন করে প্রার্থীতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহনাফ আবিদ প্রধান কৌশিকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তেলীপাড়া পানি উন্নয়ন গ্রুপ-৩, হালকা সেচ পাম্প প্রকল্পের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া আহনাফ আবিদ প্রধান কৌশিক তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরিবর্তন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে ওই নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার নন।

অভিযোগকারী ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন উল্লেখ করেন, নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এর আগেই জাতীয় পরিচয়পত্রে ঠিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রার্থীতা গ্রহণ করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময় আহনাফ আবিদ প্রধান কৌশিকের জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে একটি কপি প্রতিবেদকের হাতে আসে। সেখানে দেখা যায় ঠিকানা হিসেবে কালীগঞ্জের মাটিয়ারপাড়া উল্লেখ রয়েছে। পরিচয়পত্রের পেছনের যে অংশটি ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে রিপন নামে ভিন্ন একজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

এইদিকে নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটের তথ্য অনুযায়ী আহনাফ আবিদ প্রধান কৌশিক দেবীগঞ্জ পৌরসভার বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি এই ঠিকানার স্থায়ী বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন দেবীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিল আরিফ হোসেন।

পূর্বের এডহক কমিটির সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রধান বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তবে নির্বাচন চলাকালীন এ মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইদিকে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে জানতে অভিযুক্ত আহনাফ আবিদ কৌশিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ঐ এলাকায় ১০০ বিঘার উপরে জমি আছে। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশন সনদ এবং ভোটার স্থানান্তরের কাগজ আছে। তাহলে আমি কেন জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করবো ? এখানে দুইটা পক্ষ হয়েছে তারাই আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নির্বাচন কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দীক অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email