ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে সরকারি জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ থাকা জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাইকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের এ ঘটনায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জিনোদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল্লাহ রবি (৫২), তার ছোট ভাই রুবেল মিয়া (৩৮) ও মামাতো ভাই পলাশ মিয়া (৩৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাঙ্গরা বাজারের সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ করতে যান ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম। এতে বাধা দেন বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি শামীম মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মজনু।
এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব কাউছার আহমেদ ও তার সমর্থকরাও যোগ দেন। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রণক্ষেত্রে চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ, যুবলীগ নেতা শফিকুল, যুবদল নেতা শামীমসহ দুপক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা চেয়ারম্যান ও তার ভাইদের বাজারে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ‘মব’ বা গণপিটুনির হাত থেকে চেয়ারম্যান ও তার দুই ভাইকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ বিএনপির সমর্থকরা থানায় মামলা করতে এলে পুলিশ উদ্ধারকৃত চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে গ্রেফতার দেখায়।
আটক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি বলেন, পুলিশ সময়মতো না পৌঁছলে প্রতিপক্ষ আমাদের মেরেই ফেলত। আমি এ অন্যায়ের বিচার চাই।
অন্যদিকে, যুবদল নেতা কাউছার আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি জায়গায় জোর করে দোকান তুলতে গেলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। তখন চেয়ারম্যানের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের প্রতিরোধ করেন।
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার থেকে চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
