ছাত্রদল নেতার হুমকিতে পাথরঘাটা ছেড়েছিলেন কর্মকর্তা, ১০ দিন পর ফিরলেন কর্মস্থলে

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের ভাতিজা সোলায়মান সাদিকের সহযোগীদের হুমকিতে ১০ দিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নীল রতন সরকারকে। হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ পেতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির হস্তক্ষেপে ডা. নীল রতন শনিবার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। সকাল ১০টার দিকে কর্মস্থলে ফিরে সমকালকে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ডা. নীল রতন ১৫ এপ্রিল পাথরঘাটা ছেড়ে যান। আগের রাতে হাসপাতাল চত্বরের বাসভবনে ঢুকে গালাগাল ও হুমকি দিয়ে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম শরীফ। এতে ভীতসন্তস্ত্র হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে কর্মস্থল ছাড়েন তিনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বড় ভাই মতিউর রহমানের ছেলে সোলায়মান। তাঁর দলীয় কোনো পদ নেই। তবে, বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তিনি পাথরঘাটায় ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ছাত্রদল নেতা খাইরুল তাঁর আস্থাভাজন।

ডা. নীল রতন জানান, হাসপাতালের রোগীর খাবার, কাপড় ধোয়া, স্টেশনারিসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহে গত ২৫ মার্চ দরপত্র আহ্বান করা হয়। জমা পড়া দরপত্রে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় পথ্য ও ধৌত কাজের দরপত্র বাতিল এবং পুনঃদরপত্র ডাকা হয়েছে। স্টেশনারি সরবরাহে সর্বনিম্ন দরদাতা বরগুনা সদরের হাসানুজ্জামান কাজটি পান। এতে ক্ষুব্ধ হন ছাত্রদল নেতা খাইরুল। তিনি বিষয়টি চিফ হুইপের ভাতিজা সোলায়মানকে জানান। সোলায়মান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন করে ওই কাজেরও পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ১৪ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে খাইরুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ওই কর্মকর্তার বাসায় ঢোকে। তারা অকথ্য গালাগালসহ তাঁকে পাথরঘাটা ছেড়ে যেতে বলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হাম-রুবেলার টিকা কার্যক্রম তদারকিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান গত মঙ্গলবার বরগুনায় যান। জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার পাথরঘাটার বিষয়টি তাঁকে জানান। তখন যুগ্ম সচিব পাথরঘাটায় গিয়ে সরেজমিন তথ্য নেন। এর পরই মন্ত্রাণালয় থেকে চিফ হুইপের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেরার পরিবেশ তৈরি করা হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার করা অভিযোগ অস্বীকার করে খাইরুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমি ১৪ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে যাইনি। আমি দরপত্রে অংশও নিইনি। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব মিথ্যাচার করছেন।

চিফ হুইপের ভাতিজা সোলায়মান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে তাঁকে ফোন দিয়েছিলাম। দরপত্র নিয়ে কথা হয়নি। আমি পাথরঘাটায় ঠিকাদারি করি না। কারও জন্য সুপারিশও করি না।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email