রংপুরের মিঠাপুকুরে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নেতাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী।
অভিযুক্ত মো. এনামুল হক উপজেলার ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। সেই সূত্রে অভিযুক্ত এনামুল হকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নির্বাচন শেষে তাকে পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এনামুল।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে এনামুল হক তার বাড়িতে আসেন। সে সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে প্রথমে মোবাইল নম্বর নেন এবং পরে অশালীন কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় তিনি বাধা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ঈদের পর ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে আমার বাড়িতে আসেন এনামুল। বাড়িতে একা পেয়ে খারাপ উদ্দেশে আমাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। অনেক কষ্টে নিজেকে ছাড়িয়ে নিই। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এনামুল আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ, আমার স্বামী ভ্যানচালক।
আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, অভিযোগটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা বিএনপি অভিযুক্ত নেতাকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই তাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক নিরাপত্তা বা সরকারি সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেকে এমন অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
