বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রাজমাথা এলাকায় একটি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে এবং কাটা মাটি বিক্রি হচ্ছে পাশের ইটভাটায়। দুই-তিন দিন ধরে রাতের আঁধারে চলছে মাটি কাটার কাজ। এতে হুমকিতে পড়েছে কৃষিজমি ও চলাচলের রাস্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক পরিচয় দিয়ে রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে খালের মাটি কাটছেন। প্রতি রাত ১০ টা থেকে সকাল ৭ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ টি ট্রাক দিয়ে মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন তিনি। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রাজমাথা এলাকায় অবস্থিত একটি হোতা খাল। খালপাড়ে এক্সকাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) বসিয়েছে ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর করে কাটা হচ্ছে মাটি। সেই কাটা মাটি ডাম্প ট্রাক নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। মাটির ট্রাক চলাচলের জন্য জমির ফসল নষ্ট করা তৈরি করা হয়েছে প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা। খালের দুই পাশে কয়েকশ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, দুই তিন দিন ধরে রাতে অন্তত ৮ থেকে ১০ ট্রাক মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা ও বসতভিটায়। প্রতি ট্রাক মাটি ২০০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। খালের জমি থেকেও গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া গভীর করে মাটি কাটায় কৃষিজমিও নষ্ট হচ্ছে। আমরা দ্রত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি, যাতে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, দুই-তিন দিন হলো মাটি কাটা শুরু হয়েছে। মাটি কাটলে চলাচলের পথ নষ্ট হয়ে যায়। ফসল ঘরে তুলতে খুব কষ্ট হয়। ইউনিয়ন বিএনপি এক প্রথম সারির নেতার অধীনে ভাড়ায় কাটা হচ্ছে মাটি। গাড়িপ্রতি ২০০০ টাকায় মাটি ইটভাটায় পরিবহন করা হচ্ছে। পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ আসে না।
চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রাজ্জাক বলেন, খালটি আমাদের রেকর্ডও জমি। কৃষকের কথা চিন্তা করে খালের মাটি কাটা হচ্ছে,যাতে ভালো ভাবে পানি পেতে পারে। খালের মাটি কাটা অবৈধ তাহলে কাটেন কিভাবে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,কাটা অবৈধ। তবুও সবাইকে ম্যানেজ করে মাটি কাটা হয়।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, মাটি কাটার বিষয়টি জানার পর সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২১ এর খসড়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটা,বালি উত্তোলন: বেআইনিভাবে সরকারি বা বেসরকারির ভূমি, নদীর পাড়, তলদেশ ইত্যাদি থেকে মাটি বা বালু উত্তোলন করলে (কোন ক্ষতি হোক বা না হোক) অপরাধ হবে। সেজন্য ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা থেকে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
